ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা গভর্নরের

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৮:০৬:০১

নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা গভর্নরের

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে নতুন পে–স্কেল কার্যকর করা হলে সরকারের ব্যাংকঋণের চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। তার মতে, এর ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানুয়ারি–জুন মেয়াদের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

কর আদায় না বাড়লে ঝুঁকি বাড়বে

গভর্নর জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার ঘাটতির কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কমেছে। যদিও সরকার বাজেট ব্যয় কমানোর চেষ্টা করেছে, তারপরও ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।তার মতে, নতুন পে–স্কেল বাস্তবায়ন যদি পুরোপুরি ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করে হয়, তবে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে আইন সংশোধনের পরামর্শ

ড. মনসুর মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন করা জরুরি। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো এখানেও বিভিন্ন ধরনের চাপ থাকে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ব্যাংকিং খাত আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে।

ডলার কেনায় অগ্রগতি ও রিজার্ভের স্থিতিশীলতা

গভর্নর জানান, চলতি অর্থবছরে বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। গত এক বছরে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করা হয়নি।তিনি আরও বলেন, আইএমএফ যে সময়ের মধ্যে যত ডলার দিতে পারে, তার চেয়েও বেশি ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে কিনে রিজার্ভে সংযোজন করেছে। তার ভাষায়, “অন্যের ওপর নির্ভর হয়ে থাকতে চাই না—নিজস্ব সামর্থ্যেই রিজার্ভ শক্তিশালী করেছি।”

মুদ্রানীতির সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা

গভর্নরের মতে, মূল্যস্ফীতি ছাড়া প্রায় সব সূচকেই মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। তবে ৭ শতাংশে মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনার লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী সময়ে পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তিনি আরও বলেন, একটি মাত্র লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার কারণে পুরো নীতিকে ব্যর্থ বলা উচিত নয়। এ অবস্থায় নীতিগত সুদহার বা পলিসি রেট পরিবর্তনের প্রয়োজনও তিনি দেখছেন না।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত