ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হলফনামায় তথ্য গোপন? বিএনপি প্রার্থীর শত কোটি টাকার ঋণ ও বকেয়া বিলের অভিযোগ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৫:১২:৫৪

হলফনামায় তথ্য গোপন? বিএনপি প্রার্থীর শত কোটি টাকার ঋণ ও বকেয়া বিলের অভিযোগ

বগুড়া–৫ আসনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির প্রভাবশালী নেতা গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—তিনি নির্বাচনী হলফনামায় বিপুল অঙ্কের ঋণ ও বকেয়া বিলের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছেন বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং মাঠপর্যায়ের নানা নথিতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে হলফনামার তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে।

কি কি তথ্য গোপন হয়েছে বলে অভিযোগ? ১. নিজের প্রতিষ্ঠানের ঋণের তথ্য নেই

হলফনামায় তিনি নিজের নামে মাত্র ২৭ লাখ টাকা ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন।কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, তার মালিকানাধীন তিন প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে মোট ১০৯ কোটি টাকার ঋণ:

Cab Express BD – ২৬ কোটি

OneTel Communications – ৪৮ কোটি

SR Highway Services – ৩৫ কোটি

এসব ঋণের ওপর তিনি আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

২. স্ত্রীর নামে ৫১২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ

জি এম সিরাজের স্ত্রী শাহনাজ সিরাজ পরিচালনা করেন এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নামে রয়েছে ৫১২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ—যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

৩. বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৪১ কোটি টাকার বেশি

ঋণের পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির নামে বকেয়া রয়েছে বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল—৪১ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

আইনি বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, এ ধরনের তথ্য গোপন করা নির্বাচন আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

আইন অনুযায়ী—

প্রার্থী, তার স্ত্রী কিংবা নির্ভরশীল সন্তানের সম্পদ বা ঋণের কোনো তথ্য গোপন করলে তা আইনসঙ্গত অপরাধ।

তথ্য গোপন প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে।

হলফনামায় জি এম সিরাজ নিজের নামে ১৬২ কোটি, স্ত্রীর নামে ৪৯ কোটি এবং সন্তানের নামে ৩ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ ঋণের বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি জানলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত