ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ কতদিন? জানাগেলো প্রধান উপদেষ্টার বিবৃতিতে

২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ১৯:৪৮:২৬

গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ কতদিন? জানাগেলো প্রধান উপদেষ্টার বিবৃতিতে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এমন দাবি, যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে। তবে সরকার তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়।

বিভ্রান্তির উৎস

একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ফটোকার্ডে দেখানো হয়েছিল যে, নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার ১৮০ দিন আরও দায়িত্বে থাকবে। তবে সরকার জানিয়েছে, অধ্যাপক আলী রীয়াজের বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি মূলত নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে নয়।

সংসদের দ্বৈত ভূমিকা ও ১৮০ দিনের প্রক্রিয়া

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর নিয়ম অনুযায়ী:

নির্বাচিতদের দ্বৈত দায়িত্ব: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন, তারা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

১৮০ দিনের সময়সীমা: সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ তাদের প্রথম বৈঠকের পর থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবে। এটি নির্বাচিত নতুন সংসদের সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত সময়।

রাষ্ট্র পরিচালনা: নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই সরকার গঠন, বাজেট প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাবেন।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অধ্যাপক আলী রীয়াজ কোনো পর্যায়ে বলেননি যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে। নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরাই সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

‘না’ ভোট হলে কী হবে?

যদি গণভোটে ‘না’ ভোট আসে, তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়বে না। সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কারের পরিকল্পনা বাতিল হবে এবং সময়মতো নির্বাচিত নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা নেই। নির্বাচনের পর ক্ষমতা সরাসরি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত