ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর

২০২৬ জানুয়ারি ২৪ ১৭:৫৭:৩৩

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর

দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আসছে বড় আর্থিক স্বস্তি। নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। এতে সর্বনিম্ন বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি।

নতুন স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে আগে ছিল ১:৯.৪। এর ফলে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২০ হাজার টাকায় এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত হতে পারে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন কত বাড়ছে?

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সাধারণত ১৩তম গ্রেড বা তার কাছাকাছি গ্রেডে কর্মরত। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী—

১৩তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতন: প্রায় ১১,০০০ টাকা

প্রস্তাবিত নতুন মূল বেতন: প্রায় ২৪,০০০ টাকা

অর্থাৎ মূল বেতনেই প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে টিফিন ভাতা, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, যা মোট আয়ের পরিমাণ আরও বাড়াবে।

বাস্তবায়নে কত টাকা লাগবে?

বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান জানিয়েছেন, এই সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই ১৮৪টি সভা ও আড়াই হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত নিয়ে এই বেতন কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

কবে থেকে কার্যকর হতে পারে?

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে এই সুপারিশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে, অদূর ভবিষ্যতেই প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত