ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাড়িভাড়া নিয়ে ঢাকাবাসীর জন্য স্বস্তির খবর

২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৫:৪৬:০৫

বাড়িভাড়া নিয়ে ঢাকাবাসীর জন্য স্বস্তির খবর

ঢাকায় ভাড়াটিয়াদের জন্য এলো বড় সুখবর। প্রতি বছর জানুয়ারি এলেই যেভাবে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেন, সেই চর্চায় এবার লাগাম টানছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে দুই বছরের আগে কোনোভাবেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গুলশান-২ নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানান, বছরের শুরুতে হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানোর যে রীতি চালু ছিল, তা আর চলবে না। ভাড়া সমন্বয়ের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে জুন-জুলাই অর্থবছরে। এর বাইরে ভাড়া বাড়ানো আইনসঙ্গত হবে না।

নতুন গাইডলাইনে বাড়িওয়ালাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বসবাসযোগ্য রাখা, নিয়মিত গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এবং ছাদ বা খোলা জায়গায় সবুজায়নের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভাড়াটিয়াকে মূল ফটক ও ছাদের চাবি শর্তসাপেক্ষে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করা, লিখিত রসিদ সংগ্রহ করা এবং বাড়ির নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাড়িওয়ালা কোনো নিরাপত্তা বা কাঠামোগত পরিবর্তন করলে তা আগেই ভাড়াটিয়াকে জানাতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, একবার নির্ধারিত ভাড়া অন্তত দুই বছর অপরিবর্তিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষ একতরফাভাবে ভাড়া বাড়াতে পারবে না। দুই বছর পর উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা যাবে। তবে বার্ষিক ভাড়া বৃদ্ধি বাজারমূল্যের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এ ছাড়া অগ্রিম ভাড়া সর্বোচ্চ এক থেকে তিন মাসের বেশি নেওয়া যাবে না। সব শর্ত লিখিত চুক্তিতে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় পর্যায়ে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠন করে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ওয়ার্ডভিত্তিকভাবে সিটি করপোরেশন সরাসরি সহায়তা দেবে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ঢাকার লাখো ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত