ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১২:০৮:৩৩

কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি জনপদ রেজামণিপাড়া ও কারিগরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সংকট অবশেষে দূর হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নির্দেশনায় সৌরবিদ্যুৎচালিত একটি টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই দুই গ্রামের শতাধিক পরিবার এখন নিজ ঘরেই নিরাপদ পানীয় জল পাচ্ছেন।

চলতি বছরের ২৯ মার্চ রেজামণিপাড়া আর্মি ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সেনাপ্রধান পাহাড়ি মানুষের পানির দুর্ভোগের কথা সরাসরি জানতে পারেন। তখনই তিনি আধুনিক ও স্থায়ী সমাধান হিসেবে সৌরশক্তিনির্ভর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।

এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খাদেমুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষাই নয়, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। সেনাপ্রধানের দিকনির্দেশনায় এই বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”

দীর্ঘদিন ধরে রেজামণিপাড়া ও কারিগরপাড়ার প্রায় ১২০টি পরিবার ঝিরি ও কূপের পানি ব্যবহার করতে বাধ্য ছিল। এখন সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে যাওয়ায় তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আবেগভরে জানান, “আগে পাহাড়ি ঝিরি থেকে পানি বয়ে আনতে হতো। এখন ঘরে বসেই নিরাপদ পানি পাচ্ছি। সেনাপ্রধানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

উল্লেখ্য, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান তার কর্মজীবনের শুরুর দিকে রেজামণিপাড়া আর্মি ক্যাম্পে ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই পুরনো কর্মস্থলের মানুষের কষ্টের কথা মনে রেখেই তিনি আজ আবার মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত