ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিএনপি-জামায়াত কি জাতীয় সরকার গঠন করবে?

২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৮:২৬:০১

বিএনপি-জামায়াত কি জাতীয় সরকার গঠন করবে?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতীয় সরকার বনাম জাতীয় ঐকমত্যের সরকার—এই দুই ধারণা। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বললেও বিএনপি বলছে জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের কথা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই দুটি প্রস্তাব কি আদৌ একে অপরের কাছাকাছি, নাকি এর ভেতরে রয়েছে মৌলিক পার্থক্য?

আলোচনার সূত্রপাত যেভাবে

বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক বৈঠকের পর। যদিও বৈঠকটি ছিল ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে—বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে গিয়ে—তবুও সেখানে নির্বাচন–পরবর্তী সরকার গঠনের প্রসঙ্গ উঠে আসে।

বৈঠক শেষে জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা—নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগেই সব দলের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ্রহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই বক্তব্যকে দেখছেন ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ হিসেবে।

জামায়াতের অবস্থান: জাতীয় সরকার কেন?

জামায়াতের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একদলীয় শাসনের ফলে দেশের অর্থনীতি, আইন–শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এই বাস্তবতায় কোনো একক দলের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন। তাই তারা মনে করছে—

সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সরকারই হতে পারে স্থিতিশীলতার পথ।

তবে জামায়াত জাতীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত সামনে রেখেছে—1 দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা2 বিচার বিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ3 জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনায় গৃহীত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন

এই শর্তে যারা একমত হবে, তাদের নিয়েই সরকার গঠনের কথা বলছে দলটি।

বিএনপির অবস্থান: ঐকমত্য থাকলেও ক্ষমতার ভাগ নয়

অন্যদিকে বিএনপি বরাবরই বলে আসছে ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’—যেখানে সহযোগিতা থাকবে, কিন্তু সবাই সরকারে থাকবে না। দলটির যুক্তি হলো—

সব দল সরকারে থাকলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকবে না

এতে আবারও একপক্ষীয় সংসদের অভিযোগ উঠতে পারে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা নির্বাচনে জয়ী হলে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়েই সরকার গঠন করবেন, জামায়াতকে সেই কাঠামোর অংশ হিসেবে ভাবা হয়নি।

সম্পর্ক কি তাহলে সহযোগিতার, না প্রতিদ্বন্দ্বিতার?

একসময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে মিত্র হলেও বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াত কার্যত দুটি আলাদা রাজনৈতিক শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আসন সমঝোতা, বক্তব্য ও কৌশল—সব ক্ষেত্রেই তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তৈরি রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে উভয় দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। এই প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, দল দুটির মধ্যে টানাপোড়েন তত বাড়বে।

তাহলে কি জাতীয় সরকার সম্ভব?

বর্তমান প্রকাশ্য অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— জামায়াত শর্তসাপেক্ষে জাতীয় সরকার চায় বিএনপি ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকারে যেতে অনিচ্ছুক

ফলে নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে বিএনপি–জামায়াত একসঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা খুব বেশি নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল ও বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের ভাষায়,

“নির্বাচনের ফলই ঠিক করে দেবে সরকার কেমন হবে—ঐকমত্যের, না জোটের।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত