ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৬:০৯:৫৯

বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর প্রথমবারের মতো নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একটি ইউটিউব টকশোতে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও পথচলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

রুমিন ফারহানা বলেন,“বাংলাদেশে আজ যে আরেকটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, তার পেছনে জীবন দিয়ে লড়াই করেছেন খালেদা জিয়া। তিনিই আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন। তিনি জীবিত থাকাকালে আমার বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কারের আদেশ আসেনি। এই আদেশটি এসেছে তার মৃত্যুর পর। আজ তিনি বেঁচে থাকলে অনেক কিছুই হয়তো অন্যরকম হতো।”

দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ

তিনি জানান, গত ১৭ বছর ধরে—বিশেষ করে শেষ ১৫ বছরে—টেলিভিশন টকশো, সংসদ ও নির্বাচনি এলাকায় ধারাবাহিকভাবে দল, দেশ ও সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলে এসেছেন। তার ভাষায়, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, সেখানে নানা ধরনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থাকাটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন,“দীর্ঘদিন পর দেশে একটি নির্বাচন আসছে। সে কারণেই বিএনপি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট ও আসন সমঝোতায় গেছে। বাস্তবতা হলো, বিএনপির হাতেও হয়তো খুব বেশি বিকল্প ছিল না।”

আসন নিয়ে প্রত্যাশা ও হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল

রুমিন ফারহানা দাবি করেন, তিনি ২০১৭ সাল থেকে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট আসনে কাজ করে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে উকিল আব্দুল সাত্তার নৌকা মার্কায় চলে যাওয়ার পর দল থেকেই স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল—ওই আসনটি তাকে দেওয়া হবে।

কিন্তু নির্বাচন সামনে আসতেই পরিস্থিতি বদলে যায়।“হঠাৎ করে জানানো হলো, অন্য একটি দলের সঙ্গে জোট হচ্ছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানানো হয়নি,”—বলেন তিনি।

কেন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন

রুমিন ফারহানা বলেন,“দলের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে, কিন্তু এলাকার মানুষের প্রতি আমার যে অঙ্গীকার, তা আমি উপেক্ষা করতে পারি না। সে কারণেই আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি জানান, তার এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল—এবার যেন কোনো জোটের প্রার্থী না আসে, বরং ধানের শীষের আদর্শের প্রার্থী মাঠে থাকেন। কারণ ২০০১ সালের পর ওই আসনে ধানের শীষের নিয়মিত উপস্থিতি ছিল না। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হলেও উকিল আব্দুল সাত্তার সংসদে মাত্র একদিন উপস্থিত ছিলেন—যা মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।

বহিষ্কার নিয়ে ক্ষোভ ও বাস্তবতার কথা

বিএনপির বহিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন,“বর্তমান সময়ে মানুষকে আর অন্ধকারে রাখা যায় না। কে মাঠে আছে, কে নেই, কে দুঃসময়ে ফোন ধরেন আর কে নিরাপদ দূরত্বে থাকেন—সবই মানুষ এখন বুঝে।”

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই দাফনের আগেই বিএনপির নয়জন নেতাকে বহিষ্কারের ঘটনা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।

‘হাঁস’ মার্কায় নির্বাচন কেন

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এককভাবে নেননি জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের এলাকার ১৯টি ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।“এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার যে প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচন করার আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, দলীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করা ৮ থেকে ৯টি জরিপ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেছেন। সেই জরিপের ফলাফল দেখেই তিনি ‘হাঁস’ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মাঠের পরিস্থিতি

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে রুমিন ফারহানা বলেন,“এখন পর্যন্ত এলাকায় বড় কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। তবে ২২ তারিখ থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হবে। ২১ তারিখ প্রতীক বরাদ্দের পর সবকিছু আরও স্পষ্ট হবে।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত