ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টাকা ফেরতের জট খুলল ৫ ব্যাংকের

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৮:৫১:৩২

টাকা ফেরতের জট খুলল ৫ ব্যাংকের

২০২৬ সালের প্রথম সূর্যোদয় এক নতুন আশার আলো নিয়ে এল এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য। তারল্য সংকটে ধুঁকতে থাকা এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর শাখাগুলোতে আজ সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। নতুন ব্যানার ও সাইনবোর্ডে সজ্জিত ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকরা এখন স্বস্তির সাথে লেনদেন করছেন।

কত টাকা ও কীভাবে তোলা যাবে?

আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ ‘রেজোল্যুশন স্কিম’ বা নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত: যাদের ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা আছে, তাঁদের পুরো টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। ‘আমানত সুরক্ষা আইন’-এর আওতায় এই অর্থ যেকোনো সময় একবারে তুলে নেওয়া যাবে।২. ২ লাখ টাকার বেশি আমানত: যাদের জমা ২ লাখ টাকার বেশি, তাঁরা একবারে সব টাকা তুলতে পারবেন না। তবে প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে আগামী দুই বছর পর্যন্ত তাঁরা টাকা তুলতে পারবেন।৩. অসুস্থ ও প্রবীণদের জন্য বিশেষ সুবিধা: ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক অথবা ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালিসিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য মানবিক বিবেচনায় এই সীমা শিথিল করা হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁরা যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

আগের চেক বই ও কাগজপত্র কি সচল থাকবে?গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, নতুন ব্যাংকের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কাগজপত্র বদলানোর প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগের ব্যাংকের নামে থাকা সব চেক বই, ডিপোজিট স্লিপ, ভাউচার এবং ফরম বৈধ থাকবে। অর্থাৎ, আপনার হাতে থাকা আগের ব্যাংকের চেক দিয়েই আপনি টাকা তুলতে পারবেন।

স্থায়ী আমানত ও ঋণের নিয়ম:স্থায়ী আমানত (FDR) বা মেয়াদি স্কিমের টাকা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তোলা যাবে না। তবে আমানতকারীরা তাদের বর্তমান জমার বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা নিতে পারবেন। আর যদি কেউ নতুন করে টাকা জমা দেন, তবে তার বিপরীতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ:পাঁচটি ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি জটিলতা নেই, তাঁরা সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ার সুযোগও পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকিং খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরায় ফিরে আসবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত