ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে মিলছে সুখবর

২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১১:৫৭:৩৬

মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে মিলছে সুখবর

বাংলাদেশের সরকারি কর্মজীবীদের জন্য সুখবর বয়ে আনছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি এখন থেকে বাবারাও পাবেন সবেতনে ছুটির সুবিধা। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (পার্ট-১) সংশোধনের মাধ্যমে একটানা ১৫ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি প্রদানের একটি সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি চাকরিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

কেন এই ছুটির প্রয়োজন?

বর্তমানে দেশে সরকারি চাকুরিজীবী নারীরা ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। কিন্তু সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ মা ও নবজাতক উভয়েরই বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নবজাতক আসার পর প্রায় ৯০ শতাংশ বাবাকে অসুস্থ স্ত্রী ও সন্তানকে হাসপাতালে রেখে অফিস করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর। এই সময়ে বাবার উপস্থিতি মায়ের মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে এবং পরিবারের বন্ধন দৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিশ্বজুড়ে পিতৃত্বকালীন ছুটির চিত্র:

বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৭৮টি দেশে পিতৃত্বকালীন ছুটির বিধান রয়েছে। সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে যে:ভারত, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা: বাবারা ১০ দিনের সবেতন ছুটি পান।পাকিস্তান: এক মাসের ছুটির বিধান রয়েছে।

স্পেন: সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়।সিঙ্গাপুর: এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ছুটির সুবিধা দেয় এই দেশ।

বাংলাদেশে সরকারিভাবে এই সুবিধা না থাকলেও বেসরকারি পর্যায়ে ব্র্যাক, আড়ং এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের কর্মীদের পিতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান করছে।

আইনি সংশোধনী ও প্রস্তাব:জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (পার্ট-১)’-এর রুলস ১৯৭ সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বাবা হওয়া একজন সরকারি চাকুরিজীবী একটানা ১৫ দিন সবেতনে ছুটি কাটাতে পারবেন। এই ছুটি কাটানোর ফলে বাবারা যেমন মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে কাজে ফিরতে পারবেন, তেমনি পরিবারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শর্তারোপের বিতর্ক:পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে ভিন্ন এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। গত আগস্টে এক কর্মশালায় তিনি মন্তব্য করেন যে, পিতৃত্বকালীন ছুটিতে পিতা আসলে কতক্ষণ শিশু ও মায়ের সেবা করেছেন, তার লিখিত প্রমাণ বা শর্ত থাকা উচিত। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই নতুন প্রস্তাবে এমন কোনো কঠোর শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রধান উপদেষ্টার সদয় অনুমোদন পেলে খুব দ্রুতই এই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এর ফলে সরকারি চাকুরিজীবী বাবারা তাঁদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ পাবেন, যা আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পথে বড় একটি ধাপ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত