ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বছর শেষে সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর

২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ০৯:৫৫:১৫

বছর শেষে সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে থাকা ডাইরেক্টরেট বা নির্দেশালয়গুলোতে কর্মরত হাজার হাজার কর্মচারীর জন্য বছর শেষে বড় এক খুশির খবর এল। নবান্নে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্দেশালয়ের কর্মীদের জন্য ‘কমন ক্যাডার’ (Common Cadre) গঠনের প্রস্তাবে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে নির্দেশালয়ের কর্মীরাও সচিবালয়ের (সেক্রেটারিয়েট) কর্মীদের মতো একই ধরনের প্রশাসনিক সুবিধা ও পদোন্নতির সুযোগ পাবেন।

এতদিন কী সমস্যা ছিল?এতদিন ‘কমন ক্যাডার উইং’ বা CCW শুধুমাত্র সচিবালয়ভিত্তিক কর্মীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। এর ফলে সচিবালয়ের কর্মীরা এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি হতে পারতেন এবং তাঁদের পদোন্নতিও ছিল অত্যন্ত দ্রুত। অন্যদিকে, ডাইরেক্টরেট বা রিজিওনাল অফিসের একজন কর্মী যে দপ্তরে চাকরিতে যোগ দিতেন, প্রায়ই দেখা যেত সেখান থেকেই তাঁকে অবসর নিতে হতো। সারা জীবনে হয়তো একটির বেশি প্রোমোশন পাওয়া সম্ভব হতো না।

নতুন সিদ্ধান্তের সুফল:

১. দ্রুত পদোন্নতি: কমন ক্যাডার চালু হওয়ায় এখন থেকে প্রশাসনিক ও কর্মিবর্গ দপ্তর (PAR Department) সরাসরি এই কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে পদোন্নতির সুযোগ বহুগুণ বাড়বে।

২. বদলি বা পোস্টিং সুবিধা: এখন থেকে নির্দেশালয়ের কর্মীরা নির্দিষ্ট একটি দপ্তরে আটকে না থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ডাইরেক্টরেটেও বদলি হতে পারবেন।

৩. বিভাগীয় মর্যাদা: এই সিদ্ধান্তের ফলে লোয়ার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট (LDA), আপার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট (UDA) এবং হেড অ্যাসিস্ট্যান্টদের ডাইরেক্টরেট স্টাফ হিসেবে নতুন স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

সুবিধা পাবেন ১১ হাজার কর্মী:রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মোট ১০৬টি ডাইরেক্টরেট রয়েছে। এই নতুন নিয়মের ফলে সেখানে কর্মরত প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মানস ভুঁইয়া এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত সময়োপযোগী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ কর্মচারীদের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করবে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সংস্কারের ফলে সরকারি কাজে যেমন গতি আসবে, তেমনি কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভও প্রশমিত হবে। ২০২৬ সালকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত