ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেষ মুহূর্তে বিএনপির ১৫ আসনে প্রার্থী বদল, কারা বাদ পড়লেন

২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ০৮:২২:০৮

শেষ মুহূর্তে বিএনপির ১৫ আসনে প্রার্থী বদল, কারা বাদ পড়লেন

নির্বাচনের একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে হঠাৎ করেই বড় ধরনের কৌশলগত মোড় নিল বিএনপি। মাঠের বাস্তবতা, জনমতের হিসাব, দলীয় কোন্দল এবং জোটের অঙ্ক—সব কিছু একসঙ্গে মিলিয়ে অন্তত ১৫টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী তালিকায় নাটকীয় পরিবর্তন এনেছে দলটি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিকে দেখা হচ্ছে নির্বাচনের আগে বিএনপির সবচেয়ে বড় ‘রিস্কি কিন্তু ক্যালকুলেটেড’ চাল হিসেবে।

লক্ষ্য একটাই: ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করা

দলীয় সূত্র জানায়, যেসব আসনে জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল কিংবা অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকট—সেসব জায়গায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয়নি হাইকমান্ড। এমনকি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদেরও বাদ দিয়ে নতুন কিংবা তুলনামূলক সুবিধাজনক মুখ তুলে আনা হয়েছে।

ঢাকা-১৭: রাজনীতির নতুন হটস্পট

সবচেয়ে বড় চমক এসেছে রাজধানী থেকে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার বগুড়া-৬-এর পাশাপাশি ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঢাকার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আগে এই আসনে জোট শরিক আন্দালিব রহমান পার্থের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ভোলা সদর আসনে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে কৌশলগত বদল

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী না দিয়ে জোট রাজনীতিতে আস্থা রেখেছে। এখানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ‘কোদাল’ প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় পুরনো পরীক্ষিত নেতা আবুল কালাম আবারও আলোচনায়।

চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় ভাঙাগড়া

চট্টগ্রাম অঞ্চলে পরিবর্তনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি—

রাউজান (চট্টগ্রাম-৬): দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সংঘর্ষের প্রভাব পড়ে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাদ, নতুন মুখ গোলাম আকবর খন্দকার।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর): আসন ছেড়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী লড়বেন চট্টগ্রাম-১০ থেকে। তাঁর জায়গায় এসেছেন সাঈদ আল নোমান।

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম-৪): কাজী সালাহউদ্দিনের বদলে কারাবন্দি নেতা আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন।

জোট রাজনীতিতে নতুন হিসাব

বিএনপি এবার শরিকদের জন্য আরও বেশি আসন ছাড়তে প্রস্তুত—

নড়াইল-২: এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ

ঝিনাইদহ: গণ অধিকার পরিষদ থেকে সদ্য আসা রাশেদ খান

ঝিনাইদহ-১: আলোচিত নতুন মুখ মো. আসাদুজ্জামান

পুরোনো বাদ, নতুন আগমন

বগুড়া-২: আইনি জটিলতা কাটায় মাহমুদুর রহমান মান্না ফিরেছেন চূড়ান্ত তালিকায়

মুন্সীগঞ্জ-২: প্রবীণ নেতার জায়গায় আবদুস সালাম আজাদ

মুন্সীগঞ্জ-৩: মো. মহিউদ্দিন আহমেদ

যশোর ও মাদারীপুরের একাধিক আসনেও এসেছে নতুন মুখ

কেন এত পরিবর্তন?

দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ৩০০ আসনের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত হলেও প্রতিদিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও মাঠ জরিপের তথ্য অনুযায়ী শেষ মুহূর্তে রদবদল অনিবার্য হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, আইনি ঝুঁকি মাথায় রেখে সিনিয়র নেতাদের আসনে বিকল্প প্রার্থীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘শেষ মুহূর্তের বাজি’ বিএনপিকে কতটা এগিয়ে নেবে—তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত