ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বড় সুখবর যে ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য

২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ১১:৫৯:০৪

বড় সুখবর যে ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এক বড় ধরনের সংস্কারের সাক্ষী হতে যাচ্ছে গ্রাহকরা। তারল্য সংকটে ধুঁকতে থাকা এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (SIBL), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (FSIBL), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত হয়েছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন থেকে তাদের জমা রাখা আমানত ফেরত পাওয়া শুরু করবেন।

সোমবার থেকেই স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু:

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকেই গ্রাহকদের হিসাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সার্ভারে স্থানান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রাহকরা নতুন ব্যাংকের অধীনে যাবতীয় ব্যাংকিং সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

টাকা তোলার নতুন নিয়মাবলী:

আমানতকারীদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা তোলার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছে:

১. বর্তমান চেক বই ব্যবহার: গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, তারা তাদের আগের ব্যাংকের (যেমন: এসআইবিএল বা ফার্স্ট সিকিউরিটি) বিদ্যমান চেক বই ব্যবহার করেই টাকা তুলতে পারবেন।

২. উত্তোলনের সীমা: প্রাথমিকভাবে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। তবে ধাপে ধাপে এই পরিমাণ বাড়ানো হবে।

৩. ক্ষুদ্র আমানতকারী: যাদের অ্যাকাউন্টে ২ লাখ টাকার কম জমা আছে, তারা চাইলে একসাথেই সব টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

৪. বড় আমানতকারী: যাদের অ্যাকাউন্টে ২ লাখ টাকার বেশি রয়েছে, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর ১ লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত উত্তোলন করার সুযোগ পাবেন।

৫. বিশেষ ছাড়: ৬০ বছরের বেশি বয়সী জ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য কোনো সীমানা রাখা হয়নি। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পরিমাণ অর্থ তুলতে পারবেন।

আমানতের সুরক্ষা ও মুনাফা:

নতুন এই ব্যাংকটি রাষ্ট্র মালিকানাধীন হওয়ায় গ্রাহকদের আস্থার সংকট দূর হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমানতকারীদের অবশিষ্ট টাকার ওপর প্রচলিত ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক মুনাফা প্রদান করা হবে। প্রধান কার্যালয় রাজধানীর সেনাকল্যাণ ভবনে স্থাপন করে ইতিমধ্যে ব্যাংকটির কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকের আর্থিক শক্তি ও বিশাল নেটওয়ার্ক:

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার নিজে ২০ হাজার কোটি টাকার যোগান দিচ্ছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে। দেশজুড়ে এই ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা, ৯৭৫টি এটিএম বুথ এবং বিশাল এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের সেবা প্রদানে নিয়োজিত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে আমানতকারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে এবং দেশের ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত