ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চিনির বাজারে হঠাৎ লঙ্কাকাণ্ড, হঠাৎ পাল্টে গেল চিনির বাজার

২০২৫ ডিসেম্বর ২৯ ১১:১৪:৫৩

চিনির বাজারে হঠাৎ লঙ্কাকাণ্ড, হঠাৎ পাল্টে গেল চিনির বাজার

বিগত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের বাজারে চিনির দামে এক ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের সেই স্বস্তিতে হঠাৎ ছেদ পড়েছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম এক লাফে মণপ্রতি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

দামের বর্তমান চিত্র:বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ চিনির দাম ছিল ৪ হাজার ৪৪০ টাকা। পরবর্তীতে কয়েক ধাপে দাম কমে গত নভেম্বরের শেষে তা ৩ হাজার ২১০ টাকায় নেমে আসে। তবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। যদিও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন বাড়ছে চিনির দাম?ব্যবসায়ী ও মিলাররা এই দাম বৃদ্ধির পেছনে ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছেন:১. আমদানি বন্ধ: ব্যবসায়ীদের দাবি, সাদা চিনি আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পরিশোধিত চিনির ওপর চাপ বেড়েছে।

২. কারখানার রক্ষণাবেক্ষণ: চিনিকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বা মেশিন ওভারহোলিংয়ের কাজ চলে। এতে উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

৩. লোকসান পোষানো: অনেক ব্যবসায়ীর মতে, উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম থাকায় গত এক বছরে মিলাররা বড় অংকের লোকসান গুনেছেন, যা এখন সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।

সিন্ডিকেটের কবলে বাজার?ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ক্যাব) এই দাম বৃদ্ধির পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছে। তাদের অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকার সুযোগে অসাধু মিলার সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সামনে রমজান মাস থাকায় এখন থেকেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অপকৌশল নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

চাহিদা ও জোগানের পরিসংখ্যান:দেশে বছরে চিনির মোট চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টন। অথচ এর বিপরীতে সরকারি ১৫টি চিনিকল থেকে বছরে উৎপাদিত হয় মাত্র ৩০ হাজার টনের মতো। ফলে চাহিদার সিংহভাগই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই বিশাল গ্যাপকেই পুঁজি করে মাঝে মাঝে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

পাইকারি বাজারের এই অস্থিরতা যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট আরও বেশি হালকা হবে। নির্বাচনের এই উত্তাল সময়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত