ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন, জানুন বিস্তারিত

২০২৫ ডিসেম্বর ২৭ ১৮:৪৬:২৭

৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন, জানুন বিস্তারিত

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এবং মাঠের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে প্রার্থীদের নতুন করে সাজিয়েছে বিএনপি। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনে আগের প্রার্থীদের সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো প্রভাবশালী নেতা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আসন বদল।

১. চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): আসলাম চৌধুরীর রাজকীয় প্রত্যাবর্তনসীতাকুণ্ড তথা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বড় চমক দিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড। গত ৩ নভেম্বর এই আসনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে বেছে নিয়েছে দলটি। দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসলাম চৌধুরীর এই মনোনয়ন সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।

২. চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আসন বদলবিএনপির প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে তাঁর পুরনো ও পরিচিত দুর্গ চট্টগ্রাম-১১ আসনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর আগে গত ৩ নভেম্বরের তালিকায় তাঁকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ১১ নম্বর আসনটি তখন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। কিন্তু রণকৌশলগত কারণে বন্দর-পতেঙ্গা এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে খসরুকেই যোগ্য মনে করছে বিএনপি।

৩. চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর): নতুন মুখ সাইদ আল নোমান

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ নম্বর আসনে চলে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-১০ আসনটি শূন্য হয়। এই আসনে নতুন কান্ডারি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাইদ আল নোমানকে। শ্রমিক রাজনীতির মাধ্যমে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা নোমানকে এই আসনে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চমক সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

পরিবর্তনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের এই তিনটি আসনেই জয়ের সম্ভাবনা সুনিশ্চিত করতে বিএনপি শেষ মুহূর্তে এই কৌশলগত রদবদল করেছে। বিশেষ করে আসলাম চৌধুরী ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের অবস্থান সুসংহত করা এবং শ্রমিক নেতা নোমানকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট ব্যাংক রক্ষার চেষ্টা করছে দলটি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নতুন তালিকা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এখন মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে আনাই দলটির মূল চ্যালেঞ্জ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত