ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কত বছর জমির খাজনা না দিলে জমি খাস হয়ে যায়

২০২৫ ডিসেম্বর ২৭ ১৮:২৫:২১

কত বছর জমির খাজনা না দিলে জমি খাস হয়ে যায়

বাংলাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য বড় এক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসছে সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয় জমি মালিকানা নিশ্চিত করতে এখন থেকে ‘সার্টিফিকেট অব ল্যান্ড ওনারশিপ (CLO)’ বা ভূমি মালিকানা সনদ প্রবর্তন করতে যাচ্ছে। এটি মূলত একটি ডিজিটাল ‘স্মার্ট কার্ড’, যাতে থাকবে কিউআরকোড এবং ইউনিক নম্বর। ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হবে এবং জমির মালিকানা নির্ধারণে এই সনদটিই হবে ‘চূড়ান্ত দলিল’।

টানা ৩ বছর খাজনা না দিলেই বিপদ:

প্রস্তাবিত নতুন ভূমি আইনে সবচেয়ে আলোচিত ও সতর্কতামূলক দিক হলো ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ। নতুন আইন অনুযায়ী, যদি কোনো জমির মালিক টানা তিন বছর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করেন, তবে সেই জমিটি সরকার সরাসরি বাজেয়াপ্ত করে খাস জমি হিসেবে গণ্য করতে পারবে। মূলত কর ফাঁকি রোধ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতেই এই কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

অবৈধ দখল ও জালিয়াতির কঠোর শাস্তি:

জমি দখল এবং ভুয়া দলিল তৈরি করে অন্যের জমি আত্মসাৎ করার প্রবণতা রুখতে নতুন আইনে শাস্তির বিধান বাড়ানো হয়েছে। কেউ যদি জমি জালিয়াতি করে বা অবৈধভাবে দখল করে রাখে, তবে তাকে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

ভূমি স্মার্ট কার্ডের বিশেষত্ব:

১. ইউনিক নম্বর ও কিউআরকোড: প্রতিটি কার্ডে একটি নির্দিষ্ট নম্বর থাকবে যা দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে মুহূর্তেই জমির সঠিক মালিকানা যাচাই করা যাবে।

২. হালনাগাদ সুবিধা: জমি কেনাবেচা বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে এই স্মার্ট কার্ডটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হালনাগাদ করতে হবে।

৩. জালিয়াতি রোধ: কাগজের দলিলের চেয়ে এই কার্ড নকল করা বা জালিয়াতি করা প্রায় অসম্ভব হবে।

৪. নামজারি ও খাজনা: নামজারি এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ক্ষেত্রেও এই কার্ডটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

কৃষিজমি রক্ষায় কঠোরতা:নতুন খসড়া আইনে কৃষিজমি সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনোভাবেই দুই বা তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। যদি কোনো বিশেষ রাষ্ট্রীয় বা জনস্বার্থে প্রয়োজন হয়, তবে সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি নিতে হবে। এছাড়া সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো কৃষি জমিকে অন্য শ্রেণিতে (যেমন আবাসিক বা শিল্প) রূপান্তর করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের মামলা-মোকাদ্দমা এবং দখলবাজি অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জমির মালিকদের এখন থেকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে, বিশেষ করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধের বিষয়ে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত