ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

স্বর্ণের বাজারে লঙ্কাকাণ্ড: সব রেকর্ড ভেঙে গেলো

২০২৫ ডিসেম্বর ২৬ ২২:১৬:১৬

স্বর্ণের বাজারে লঙ্কাকাণ্ড: সব রেকর্ড ভেঙে গেলো

বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে আজ এক ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় দিন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ড চূর্ণ করে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক লাফে প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বৃদ্ধির ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দেশজুড়ে অলঙ্কার ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই নতুন মূল্য কার্যকর রয়েছে।

কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে অলঙ্কার তৈরির কাঁচামাল বা তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি এর দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বুলিয়ন মার্কেটে সোনার উচ্চমূল্যের কারণে দেশের বাজারে এই বড় সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই দাম মূলত বড়দিনের আমেজেই পুরো বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে।

একনজরে আজকের স্বর্ণের মূল্য তালিকা (ভরিপ্রতি):

বাজুসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মানভেদে স্বর্ণের দামগুলো এখন নিম্নরূপ:

২২ ক্যারেট (হলমার্ক করা): ২,২৬,২৮২ টাকা।

২১ ক্যারেট: ২,১৬,০১৭ টাকা।

১৮ ক্যারেট: ১,৮৫,১৬৬ টাকা।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: ১,৫৪,৩১৫ টাকা।

ভ্যাট ও মজুরিসহ চূড়ান্ত হিসাব:

ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, বাজুস নির্ধারিত এই দামের সাথে অলঙ্কার কেনার সময় অতিরিক্ত কিছু খরচ যোগ হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি (মেকিং চার্জ) প্রদান করা বাধ্যতামূলক। গয়নার নকশা ও জাঁকজমকের ওপর ভিত্তি করে এই মজুরি আরও বেশি হতে পারে।

রুপার বাজারের বর্তমান অবস্থা:

স্বর্ণের পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রুপার দামও। বড় অংকের এক লাফের পর বর্তমানে রুপার বাজারদর নিম্নরূপ:২২ ক্যারেট রুপা: ৫,১৩২ টাকা (ভরি)।

২১ ক্যারেট রুপা: ৪,৮৯৯ টাকা।

১৮ ক্যারেট রুপা: ৪,১৯৯ টাকা।

সনাতন পদ্ধতির রুপা: ৩,১৪৯ টাকা।

বাজার বিশ্লেষণ:বিয়ে কিংবা উৎসবের এই মৌসুমে স্বর্ণের এমন আকাশচুম্বী দামে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে দেশের বাজারে তা আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা থাকলেও অতিরিক্ত দামের কারণে কেনাকাটায় এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত