ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৯ম পে স্কেল নিয়ে নতুন ঘোষণা

২০২৫ ডিসেম্বর ২৬ ১৭:০৬:০০

৯ম পে স্কেল নিয়ে নতুন ঘোষণা

বাংলাদেশের সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৈষম্য দূর করতে ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে স্কেল গঠনের দাবি এখন তুঙ্গে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত জুলাই মাসে একটি পে কমিশন গঠন করে সাধারণ কর্মচারীদের মনে আশার আলো জাগিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারের অবস্থান পরিবর্তন এবং কমিশনের সুপারিশ দাখিলে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই আশা এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে।

আন্দোলনের নতুন রূপরেখা ও প্রেক্ষাপট:

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে এবং দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় গত কয়েক সপ্তাহ কর্মচারীরা তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত রেখেছিলেন। তবে দফায় দফায় আল্টিমেটাম দেওয়ার পরেও সরকারের পক্ষ থেকে নবম পে স্কেল নিয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ফের রাজপথে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্মচারী সংগঠনগুলো। এই লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নতুন এই আন্দোলনের বিস্তারিত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

২০২৬ সালের শুরুতেই বড় কর্মসূচি:

কর্মচারী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, নতুন বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। সম্ভাব্য কর্মসূচির তালিকায় রয়েছে:

দাবি আদায়ে দেশব্যাপী প্রতীকী অনশন কর্মসূচি।

বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মহাসমাবেশ।

অফিস চলাকালীন প্রতিদিন ১ থেকে ২ ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি পালন।

আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচিগুলোর সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

কেন এই অস্থিরতা?উল্লেখ্য, পে কমিশন গঠনের সময় ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। শুরুতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এই সরকারের আমলেই নতুন পে স্কেল কার্যকর হবে। কিন্তু গত নভেম্বর মাসে তিনি তাঁর অবস্থান বদলে জানান, পে স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। অর্থ উপদেষ্টার এই ‘ইউ-টার্ন’ বা ভোলবদলের পরেই সরকারি কর্মচারীদের মনে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ্য আন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করেছে।

শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই প্রতিবাদের ঘোষণা:আন্দোলনের ডাক দিলেও ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’ অত্যন্ত সতর্ক। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেছেন যে, তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কোনোভাবেই চাকুরির বিধিমালা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন না। তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই নিজেদের নায্য অধিকারের দাবি জানাবেন। তাদের মতে, আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যের বাজারে বর্তমান বেতন দিয়ে পরিবার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত