ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশের সবচেয়ে ধনী জেলা ও উপজেলার তালিকা প্রকাশ

২০২৫ ডিসেম্বর ২৬ ০৮:৫৯:০২

দেশের সবচেয়ে ধনী জেলা ও উপজেলার তালিকা প্রকাশ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমান্তরালে বিভিন্ন অঞ্চলের জীবনযাত্রার মানে বড় ধরনের তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) 'বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২' শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের সবচেয়ে ধনী জেলা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে নোয়াখালী। অন্যদিকে, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা উপজেলা হলো ঢাকার পল্টন।

নোয়াখালীর অভাবনীয় সাফল্য:প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নোয়াখালী জেলায় দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম, মাত্র ৬ দশমিক ০১ শতাংশ। অর্থাৎ এই জেলার বিশাল একটি অংশ বর্তমানে সচ্ছল জীবনযাপন করছে। মূলত প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং স্থানীয় ব্যবসার প্রসারের ফলে নোয়াখালী এই গৌরব অর্জন করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পল্টন যখন দারিদ্র্যমুক্ত:উপজেলা বা থানা পর্যায়ের হিসেবে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পল্টন দেশের সবচেয়ে ধনী এলাকা। এখানে দারিদ্র্যের হার মাত্র ১ শতাংশ, যা দেশের যেকোনো এলাকার তুলনায় সর্বনিম্ন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার নেই বললেই চলে।

সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মাদারীপুর:ধনীর তালিকার বিপরীত পিঠে রয়েছে মাদারীপুর জেলা। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাদারীপুর জেলা দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা ৬৩ দশমিক ০২ শতাংশ দারিদ্র্য নিয়ে তালিকার একেবারে নিচে অবস্থান করছে। প্রশাসনিক অবহেলা বা ভৌগোলিক কারণে এই অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভাগীয় দারিদ্র্যের চিত্র:বিভাগভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, দারিদ্র্যের কষাঘাতে সবচেয়ে বেশি জর্জরিত বরিশাল বিভাগ, যেখানে দারিদ্র্যের হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এর বিপরীতে সবচেয়ে সচ্ছল অবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে দারিদ্র্যের হার ১৫ দশমিক ০২ শতাংশ।

বিবিএসের এই মানচিত্রটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের এক প্রান্ত যখন উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে, অন্য প্রান্ত কেন পিছিয়ে পড়ছে—সেই বৈষম্য দূর করতে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত