ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তিন দিনে কোথায় কোথায় যাবেন, দেখেনিন পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি

২০২৫ ডিসেম্বর ২৫ ১০:২৩:৩২

তিন দিনে কোথায় কোথায় যাবেন, দেখেনিন পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি

দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং পরবর্তী কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তিন দিনের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি।

প্রথম দিন (বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর): মা ও মাতৃভূমির সান্নিধ্যসালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তাঁর অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। দীর্ঘ সময় পর মা ও ছেলের এই সাক্ষাৎ হবে অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত।

দ্বিতীয় দিন (শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর): প্রতিষ্ঠাতা ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রত্যাবর্তনের দ্বিতীয় দিনে তারেক রহমান জাতীয় গুরুত্ব ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাবেন। জুম্মার নামাজের পর তিনি শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে গিয়ে ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করবেন।

তৃতীয় দিন (শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর): নাগরিক অধিকার ও আন্দোলনের বীরদের পাশেশনিবারের কর্মসূচিটি হবে বেশ বৈচিত্র্যময়। সকালে তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাঁর এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করবেন। এরপর তিনি সদ্য প্রয়াত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে যাবেন। দিনের শেষভাগে তিনি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেবেন এবং তাদের পাশে দাঁড়াবেন।

জনসভার পরিবর্তে মহাসড়কে দোয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এবার রাজধানীর প্রচলিত বড় জনসভাস্থল যেমন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া এভিনিউতে কোনো বড় জমায়েত রাখা হয়নি। জনদুর্ভোগ এড়াতে রাজধানীর নবনির্মিত '৩৬ জুলাই মহাসড়ক'-এর সার্ভিস লেনের একপাশে একটি বিশেষ আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এই অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বক্তা থাকবেন না।

তারেক রহমানের এই তিন দিনের কর্মযজ্ঞ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এতে পারিবারিক আবেগ, জাতীয় বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জুলাই বিপ্লবের আহতদের প্রতি সহমর্মিতার এক বিরল সংমিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। বিএনপি নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমেই বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত