ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নবম পে স্কেল ২০২৬ : এখন থেকে যত টাকা বেতন পাবে সরকারি চাকরিজীবিরা

২০২৫ ডিসেম্বর ২৪ ১৭:৫৪:০৩

নবম পে স্কেল ২০২৬ : এখন থেকে যত টাকা বেতন পাবে সরকারি চাকরিজীবিরা

বাংলাদেশের সরকারি খাতের বেতন কাঠামোতে এক আমূল পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। 'নবম জাতীয় বেতন স্কেল' বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডকে কমিয়ে ১৩টি গ্রেডে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমিয়ে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব বেতন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বাস্তবায়নের সময়সীমা ও তিন ধাপের পরিকল্পনা:

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশমালা সরকারের কাছে জমা দেবে। এরপর প্রস্তাবিত বাজেট ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে জারি করা হবে সরকারি গেজেট। মূলত অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে এই মেগা প্রকল্পটিকে তিনটি পর্যায়ে কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে।

গ্রেড ও বেতনের নতুন সমীকরণ:

নতুন কাঠামোতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে গ্রেড সংখ্যায়। প্রচলিত ২০টি গ্রেডের পরিবর্তে এখন থেকে মাত্র ১৩টি গ্রেড থাকবে। প্রস্তাবিত এই কাঠামো অনুযায়ী:

সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৩২,০০০ টাকা (লক্ষ্যমাত্রা)।

সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,২৮,০০০ টাকা।

বেতন বৃদ্ধির হার: গত এক দশকের মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে বেতন প্রায় ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়েছে কমিশন।

গ্রেড ভিত্তিক সম্ভাব্য বেতন কাঠামো:

কমিশনের পর্যালোচনায় উঠে আসা বিভিন্ন ধাপের বেতনচিত্র নিম্নরূপ:দ্বিতীয় গ্রেড: ১,২৭,৪২৬ টাকা।

পঞ্চম গ্রেড: ৮৩,০২০ টাকা।

অষ্টম গ্রেড: ৪৪,৪০৬ টাকা।

দশম গ্রেড: ৩০,৮৯১ টাকা।

সর্বনিম্ন (২০তম) গ্রেড: ১৫,৯২৮ টাকা (প্রাথমিক ধাপে)।

মাঠপর্যায়ে ক্ষোভ ও আন্দোলনের আল্টিমেটাম:

যদিও সরকার ২০২৬ সালকে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের ১০ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে অনড়। অন্যদিকে, সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর সমন্বয় পরিষদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে ১ জানুয়ারি থেকে তারা ‘লং মার্চ’-এর মতো কঠোর কর্মসূচিতে অংশ নেবে। এই আল্টিমেটাম প্রশাসনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ:নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের জন্য একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। এটি কার্যকর করতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এই বিশাল অংকের জোগান দিতে উন্নয়ন বাজেটে কাটছাঁট করার সম্ভাবনাও রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই অর্থ কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ালেও বাজারে যাতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

নবম পে স্কেল কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং এটি সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা আনার একটি মাধ্যম। তবে সবকিছুর মূল এখন ঝুলে আছে ৩১ ডিসেম্বরের ডেডলাইন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের ওপর।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত