ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নতুন বছরে স্বর্ণ ও তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে

২০২৫ ডিসেম্বর ২১ ০০:১৬:৩৯

নতুন বছরে স্বর্ণ ও তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে

২০২০ সাল থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তার রেশ এখনো কাটেনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সাল হতে পারে পণ্যবাজারের জন্য একটি 'বাস্তবতার পরীক্ষার' বছর। সরবরাহ সংকট, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির প্রভাবে স্বর্ণ, তেল ও অন্যান্য ধাতুর দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

১. সোনার জয়জয়কার: বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়

পণ্যবাজারের বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবে সোনা। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক যুদ্ধের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছেন। ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২০২৬ সালে তা সাড়ে ৪ হাজার ডলারের রেকর্ড ছুঁতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমালে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে সোনার এই দৌড় থামানো কঠিন হবে। রুপার ক্ষেত্রেও একই রকম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

২. তেলের বাজারে কি দরপতন ঘটবে?

সোনার দাম বাড়ার পূর্বাভাস থাকলেও তেলের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি নীতি মূলত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দেবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রশাসন চাইবে সাধারণ মানুষের নাগালে তেলের দাম রাখা। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো উৎপাদন বাড়াতে পারে। এছাড়া চীনের অর্থনৈতিক মন্দাভাবের কারণে তেলের চাহিদা কম থাকায় বাজারে জোগান বাড়বে, যা দামকে নিম্নমুখী রাখতে পারে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি বদলালে চিত্র ভিন্নও হতে পারে।

৩. খাদ্যপণ্য ও গ্যাসের বাজার:

২০২৫ সালে গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের বাম্পার ফলনের ফলে বৈশ্বিক মজুত বেড়েছে, যা খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারে নতুন প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্প চালু হওয়ায় গ্যাসের জোগান রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাবে। তীব্র শীতের আশঙ্কা কম থাকায় জ্বালানি গ্যাসের দাম ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

৪. তামার বাজারে অনিশ্চয়তা:

শিল্পধাতু হিসেবে তামা হলো বিশ্ব অর্থনীতির 'থার্মোমিটার'। বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে তামার প্রয়োজন বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে তামার দাম ওঠানামা করতে পারে। তবে চীনের শিল্পকারখানাগুলো যদি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়, তবে তামার বাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল হবে পণ্যবাজারের জন্য একটি রূপান্তরের বছর। একদিকে সোনার আকাশচুম্বী দামের হাতছানি, অন্যদিকে তেলের পড়তি দাম—বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি এক চ্যালেঞ্জিং সময়। শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক লড়াই ই নির্ধারণ করবে তেলের ব্যারেল আর স্বর্ণের আউন্স কোন দিকে মোড় নেবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত