ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভাতার দাবিতে আন্দোলন : ১৪ জনকে বরখাস্ত

২০২৫ ডিসেম্বর ১৭ ১৯:১৮:১৬

ভাতার দাবিতে আন্দোলন : ১৪ জনকে বরখাস্ত

সচিবালয়ে বিশেষ ভাতার দাবিতে চলমান আন্দোলনের ঘটনায় বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সচিবালয়ের ১৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) একাধিক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।

এর আগে ভাতা আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের শীর্ষ নেতারাও। সংগঠনটির সভাপতি বাদিউল কবির, সহসভাপতি শাহীন গোলাম রাব্বানী এবং নজরুল ইসলাম এই তালিকায় আছেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং অফিস সহায়করাও রয়েছেন বরখাস্তের আওতায়।

বরখাস্ত হওয়া অন্যদের মধ্যে আছেন—স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী ও বিকাশ চন্দ্র রায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল, ইসলামুল হক ও মো. মহসিন আলী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক কামাল হোসেন ও মো. আলিমুজ্জামান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক নাসিরুল হক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. তায়েফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর সচিবালয়ে ‘বিশেষ ভাতা’র দাবিতে আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে তারা অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে প্রায় সাত ঘণ্টা সচিবালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশি সহায়তায় রাত সোয়া ৮টার দিকে তিনি বাসভবনে ফিরে যান।

এর পরদিনও আন্দোলন অব্যাহত রেখে সচিবালয় এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন কর্মচারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে আন্দোলনকারী নেতা-কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার পরই প্রশাসনিক তদন্ত জোরদার করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আসে।

সরকারি মহলে ধারণা করা হচ্ছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নষ্টের অভিযোগে এই বরখাস্তের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হলো।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত