ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

২০২৫ ডিসেম্বর ০৯ ১৮:০৯:৩৮

সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত

পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদ দিয়ে পাসপোর্ট ইস্যুর বিধান কার্যকর হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে—অনেক সরকারি চাকরিজীবী আবেদনপত্রে নিজের প্রকৃত পেশা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করছেন। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) হালনাগাদ পেশাগত তথ্য না থাকায় ই-পাসপোর্ট সিস্টেমও তথ্য যাচাই করতে পারছে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ই-পাসপোর্ট সিস্টেমের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের তথ্যভান্ডার 'আইবাস (IBAS)' সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সব সরকারি চাকরিজীবীর এনআইডিতে পেশা হালনাগাদ বাধ্যতামূলক করা হবে।

কী সমস্যা দেখা দিয়েছিল?

৩০ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে জানানো হয়—পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট প্রদানের পর বহু সরকারি কর্মচারী আবেদনপত্রে পেশা "সাধারণ পেশাজীবী" হিসেবে উল্লেখ করছেন।

কারণ—

এনআইডিতে ১৬–১৮ বছর বয়সে করা পেশা এখনও অপরিবর্তিত থাকে।

চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও অধিকাংশই পেশা পরিবর্তনের জন্য এনআইডি আপডেট করেন না।

ফলে ই-পাসপোর্ট সিস্টেম এনআইডি দেখে বুঝতে পারছে না কে সরকারি চাকরিজীবী আর কে নন।

ফলে তারা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নিয়ে ফেলছেন—যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ডিআইপি কী বলছে?

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার জানান—

পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল করায় কিছু দুর্বৃত্ত সুযোগ নিচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা চাইলে সহজেই পেশা লুকিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে পারেন।

এনআইডির পেশাগত তথ্য পুরোনো হওয়ায় সিস্টেম তাদের শনাক্ত করতে পারছে না।

তিনি প্রস্তাব দেন—

ই-পাসপোর্ট সিস্টেমকে IBAS-এর সঙ্গে যুক্ত করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি কর্মচারীর পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হবে।

চাকরিতে যোগদানের ৩ মাসের মধ্যে এনআইডিতে পেশা আপডেট বাধ্যতামূলক করা উচিত।

সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বৈঠকের আলোচনার পর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—

প্রথম ধাপে ই-পাসপোর্ট ও আইবাস সিস্টেমের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হবে।

এনআইডিতে সরকারি চাকরিজীবীদের পেশা হালনাগাদ বাধ্যতামূলক করা হবে—তবে সংসদ নির্বাচন শেষ হলে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে সহজ প্রক্রিয়ায় এই আপডেট কার্যক্রম চালু হবে।

এই সমন্বয়ের ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা পেশা গোপন করে পাসপোর্ট নিতে পারবেন না এবং নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত