ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশের ১২ ব্যাংক দেউলিয়ার পর্যায়ে, নামে মাত্র টিকে আছে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক

২০২৫ নভেম্বর ০৮ ১০:৩০:২০

দেশের ১২ ব্যাংক দেউলিয়ার পর্যায়ে, নামে মাত্র টিকে আছে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বক্তারা জানান, লুটপাট ও খেলাপি ঋণের কারণে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত সংকটাপন্ন। ১২টি ব্যাংক দেউলিয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং ৫টি বেসরকারি ব্যাংক কার্যত নামেমাত্র টিকে আছে।

পতিত রাজনৈতিক সরকারের সময় ব্যাংক ও আর্থিক খাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকরা তাদের জমা রাখা অর্থ তুলতে পারছেন না। বিশেষত পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক কার্যত নামেমাত্র টিকে আছে। এছাড়া ১২টি ব্যাংক দেউলিয়ার পর্যায়ে, এবং অতিমাত্রায় দুর্বল ১৫টি ব্যাংক রয়েছে।

দখল ও লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পাঁচ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে মোট ঋণের মধ্যে খেলাপির হার আগামীতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট আরও বাড়বে।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ব্যাংক খাত নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। সেমিনার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএপি) ও জার্মানির ওটিএইচ অ্যামবার্গ ওয়েইডেন। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ব্যাংকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা। মূল প্রবন্ধের খসড়া গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন মাহমুদ ওসমান ইমাম। বক্তৃতা দেন পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা আরও জানান, এস আলম একাই পুরো ব্যাংক খাত ধ্বংস করে দিয়েছেন, এবং তার সহযোগীরা আরও ক্ষতি করেছেন। খাতের সংস্কারের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, রাজনৈতিক সরকারের কারণে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না। ফলে ব্যাংক খাতের অবস্থা আগের পর্যায়ে ফিরে যায় বা আরও অবনতি ঘটে।

লুটপাটের ফলে ব্যাংক খাত ধ্বংস হয়েছে এবং বেশিরভাগ টাকা পাচার হয়ে যাওয়ায় আদায়ের সম্ভাবনা নেই। এর প্রভাব এখনও টানা অনুভূত হচ্ছে এবং তারল্য সংকট আরও বাড়তে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত