ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

কেনো বিএনপির প্রার্থী তালিকায় নেই রুহুল কবির রিজভী

২০২৫ নভেম্বর ০৭ ১৬:১৮:১৫

কেনো বিএনপির প্রার্থী তালিকায় নেই রুহুল কবির রিজভী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ২১৪ জন প্রার্থীর প্রাথমিক নামের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম নেই। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, দলের জন্য এত ত্যাগের পরও কেন তাকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হলো? তবে ভিডিওতে রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবন এবং দলের প্রতি তার আত্মনিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা তার মনোনয়ন না চাওয়ার প্রকৃত কারণকে উন্মোচন করে।

রিজভীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ ও সংগ্রাম:রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। উচ্চ মাধ্যমিকের পর বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হন। গত সাড়ে তিন দশকে দলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের টানা ১৭ বছরের শাসনামলে রুহুল কবির রিজভী নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দলের সবচেয়ে দুঃসময়ে, যখন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ অবরুদ্ধ, তখন তিনি ছিলেন সবচেয়ে সরব। চারদিকে নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় এবং দল যখন ভেঙে যাওয়ার পথে, তখনও তিনি দলের জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঝটিকা মিছিল করেছেন। একটার পর একটা মামলা দিয়ে তাকে বারবার গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় তাকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

মনোনয়ন না চাওয়ার পেছনের কারণ:রুহুল কবির রিজভীর এই দীর্ঘ ও ত্যাগপূর্ণ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনোই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাননি। ২০০১ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তাকে নির্বাচন করতে বলা হলেও তিনি আগ্রহী হননি। এমনকি এবারের নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন ফরমও নেননি।

রিজভী মনে করেন, নির্বাচন নয়, বরং দলের জন্য কাজ করাই তার রাজনৈতিক লক্ষ্য। অতীতেও তিনি নিজের একটি আসনে প্রার্থী হয়ে প্রচারে ব্যস্ত না থেকে সারা দেশে দলের জন্য কাজ করতে চেয়েছেন।

দলীয় মূল্যায়ন:ভিডিওতে এটি স্পষ্ট যে, রুহুল কবির রিজভীর এই ত্যাগ এবং দলের প্রতি আত্মনিবেদন প্রশ্নাতীত। তার মনোনয়ন না চাওয়াকে দলীয় নেতৃত্ব ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে দলের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে বলেই তাকে এত বড় দায়িত্বে রাখা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত, যিনি ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত