ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘূর্ণিঝড় কালমেগির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড সবকিছু, নিহত ৫৮

২০২৫ নভেম্বর ০৫ ১০:৩৩:৫৭

ঘূর্ণিঝড় কালমেগির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড সবকিছু, নিহত ৫৮

ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় কালমেগি আঘাত হেনেছে, যা প্রবল বৃষ্টি এবং বন্যার সৃষ্টি করেছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এ ঝড়ে অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরে কালমেগি আঘাত হানা শুরু করে এবং বুধবারও আঘাতের ধাক্কা চলেছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের সমস্ত শহর প্লাবিত হয়েছে। কর্দমাক্ত বন্যার পানির তোড়ে গাড়ি, ট্রাক এবং বড় আকারের কনটেইনার ভেসে যাচ্ছে।

সেবুর বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপ-প্রশাসক রাফায়েলিতো আলেজান্দ্রো বলেছেন, কেবল সেবুতেই ২১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া লেইতে প্রদেশে এক বৃদ্ধ, এবং বোহলে এক ব্যক্তি গাছচাপা পড়ে মারা গেছেন।

প্রাদেশিক গভর্নর পামেলা বারিকুয়াত্রো জানিয়েছেন, বন্যার পানি সবচেয়ে বড় বিপদ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় দুর্যোগ কর্মকর্তা এথেল মিনোজা জানিয়েছে, সেবু সিটিতে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা এখনও পানিবন্দি মানুষদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড় ও টাইফুন ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে, এবং উষ্ণ মহাসাগরের কারণে ভারি বৃষ্টিপাত বেড়ে যাচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা আলেজান্দ্রো জানান, ঝড়ের সম্ভাব্য পথে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম চলাকালীন, উত্তর মিন্দানাও দ্বীপে একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এখনও জীবিত রয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত নয়।

টাইফুন কালমেগি বর্তমানে ফিলিপাইনের ভিসায়ান দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করছে, যেখানে ঘণ্টায় ১৩০ কিমি বাতাস বইছে এবং দমকা হাওয়ার গতি ১৮০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এই ঝড়ের কারণে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ছে।

ফিলিপাইনে প্রতিবছর গড়ে অন্তত ২০টি ঝড় ও টাইফুন আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞরা জানান, টাইফুন কালমেগির মধ্য দিয়ে দেশটি ইতোমধ্যে বার্ষিক গড় সংখ্যায় পৌঁছে গেছে, এবং ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৩-৫টি ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরেও ফিলিপাইন দুটি শক্তিশালী ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একটি সুপার টাইফুন রাগাসা, যা প্রতিবেশী তাইওয়ানেও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছিল।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত