ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হঠাৎ যে কারনে কবর থেকে তোলা হচ্ছে ১১৪ লাশ

২০২৫ নভেম্বর ০৩ ১৬:২৭:৩৯

হঠাৎ যে কারনে কবর থেকে তোলা হচ্ছে ১১৪ লাশ

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ–আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে ১১৪টি বেওয়ারিশ লাশ রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় দীর্ঘ এক বছর পর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট এসব লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।

তিন মাস পার হলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে জুলাই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুত শেষ হয়েছে এবং আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই উত্তোলন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ, যারা ডিএনএ পরীক্ষা ও শনাক্তকরণের দায়িত্বে থাকবে।

আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক অগ্রগতি

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হুসাইন বলেন,

“বেওয়ারিশ লাশ উত্তোলনের বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে চলছে। পিডব্লিউডি অস্থায়ী জায়গা নির্ধারণ করেছে, বাজেট অনুমোদনও হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন।”

আইন অনুযায়ী, লাশ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের দায়িত্ব পুলিশের, আর জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট সরবরাহ করে। আদালতের নির্দেশে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. মাহিদুল ইসলাম এ আবেদন করেন, যা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ৪ আগস্ট অনুমোদন করেন।

কবরস্থানে শহীদদের স্মৃতি

রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ৪ নম্বর ব্লকের ৩৭ নম্বর লেনেয় সারিবদ্ধভাবে দাফন করা হয়েছে এই ১১৪টি লাশ। পুরো এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়েছে পাকা দেয়াল, যেখানে বড় অক্ষরে লেখা—

“জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এর শহীদদের গণকবর”

দেয়ালে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতও খোদাই করা আছে।

গোরখোদকেরা জানান, “জুলাই আন্দোলনের সময় একের পর এক লাশ আসত, আমরা দাফন করতাম। পরিচয়হীন হওয়ায় কোনো কবরেই নাম লেখা হয়নি।”

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ভূমিকা

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম জানায়, জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ১১৪টি নাম–পরিচয়হীন লাশ তারা পুলিশের মাধ্যমে গ্রহণ করে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করে।সবশেষ ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ঢামেকের মর্গে এক বছর ধরে থাকা ৬টি লাশ (১ নারীসহ) দাফন করা হয় জুরাইন কবরস্থানে।

নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে এক মায়ের আর্তি

যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী সোহেল রানা গত বছরের ১৮ জুলাই আন্দোলনে গিয়ে নিখোঁজ হন। তার মা রাশেদা বেগম বলেন,

“ফেসবুকে একটা ভিডিও দেখে বুঝেছিলাম, ওটাই আমার ছেলের লাশ। পরে আঞ্জুমানের তালিকায় ছবিটা পাই—জেনে যাই, রায়েরবাজারেই ওর কবর। কিন্তু ঠিক কোন কবরটা, কেউ বলতে পারে না।”

তার ছেলের নাম এখন নিখোঁজদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষা ও পরিচয় শনাক্তকরণ

জুলাই ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ প্রধান মো. জাহিদ হোসাইন বলেন,

“আমরা ডিএনএ সংগ্রহ ও প্রোফাইল তৈরির সব প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামী ১০–১৫ দিনের মধ্যেই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিখোঁজদের পরিবারের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে লাশের পরিচয় নির্ধারণ করা হবে।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত