ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৬ বছর পর হারানো ক্ষমতা ফিরে পেলো সেনাবাহিনী

২০২৫ অক্টোবর ২৫ ১৩:৪২:১৪

১৬ বছর পর হারানো ক্ষমতা ফিরে পেলো সেনাবাহিনী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন— দীর্ঘ ১৬ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের সময় আইন প্রয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পেল সেনাবাহিনী। এক যুগেরও বেশি সময় পর দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী আবারও নির্বাচনী মাঠে “আইন প্রয়োগকারী সংস্থা” হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

২০০১ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে প্রথমবারের মতো এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করে দেয়। এরপর থেকে নির্বাচনী কার্যক্রমে সেনাবাহিনী শুধু সহায়ক বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

অবশেষে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা ফেরত দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখন থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের মতোই নির্বাচনী অপরাধের দায়ে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন।

২০০৮ সালে ক্ষমতা বাতিলের সময় প্রতিরক্ষা বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়েছিল। সেই সময় অনেকে বলেছিলেন, সেনাবাহিনীর এই ক্ষমতা “ভোট কারচুপি ও জাল ভোটের পথে বড় বাধা” হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সেনাদের ভূমিকা সীমিত করা হয়— এমনকি আনসার সদস্যের চেয়েও কম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল সেনাসদস্যদের।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান এল মাসুদ বলেন,

“আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের বিশ্বাসের প্রতীক। সবাই মনে করে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকলে নির্বাচন আরও সুষ্ঠু হবে। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণেই আমরা আরপিও সংশোধন করেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন,

“এই সংশোধনের ফলে সেনাবাহিনীকে আর কোনো উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। তারা এখন সরাসরি নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এটি একদিকে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত