ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ড্রাইভিং লাইসেন্স দেবে নতুন সংস্থা, আসছে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ”

২০২৫ অক্টোবর ২২ ১৫:৫৯:০৯

ড্রাইভিং লাইসেন্স দেবে নতুন সংস্থা, আসছে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ”

বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পেশাদার চালক তৈরি করতে সরকার লাইসেন্স প্রদানের বর্তমান পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে যাচ্ছে। এখন থেকে কোনো প্রার্থীকে লাইসেন্স পেতে হলে অন্তত ৬০ ঘণ্টা বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। শুধু তাই নয়— এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আর লাইসেন্স ইস্যুর দায়িত্বে থাকছে না!

বুধবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস–২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এই নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে। প্রশিক্ষণই হবে মূল ভিত্তি, এবং বিদ্যমান অনেক কমিটি বিলুপ্ত করা হবে।”

উপদেষ্টা আরও জানান, যারা ড্রাইভিং শিখতে বা লাইসেন্স পেতে চান, তাদেরকে ৬০ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সরকার ভাতা প্রদানের পরিকল্পনাও করছে। তার ভাষায়, “প্রশিক্ষিত চালক ছাড়া নিরাপদ সড়ক কল্পনা করা যায় না।”

এই প্রশিক্ষণ শুধু বিআরটিসি বা সেনাবাহিনীর কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতেও এই কোর্স চালু হবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো— এই অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোই ভবিষ্যতে সরাসরি লাইসেন্স ইস্যু করবে, অর্থাৎ বিআরটিএ'র দীর্ঘদিনের এই দায়িত্ব এখন সরছে মাঠ পর্যায়ে।

নতুন নিয়মে ড্রাইভারদের জন্য দুটি ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে— একটি তাত্ত্বিক জ্ঞান (যানবাহনের নিয়ম, সড়ক সংকেত, ট্রাফিক আইন) এবং অন্যটি প্রায়োগিক দক্ষতা (ড্রাইভিং নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং, ব্রেকিং ইত্যাদি)। এর পাশাপাশি লাইসেন্স পাওয়ার আগে প্রার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই ও ডোপ টেস্ট করানো হবে।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, যদি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়, তবে আগামী মাস থেকেই নতুন এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে।

হাতিরঝিলের সড়ক ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে) মো. খোদা বখশ চৌধুরী, সেতু সচিব মো. আবদুর রউফ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমসহ খাতটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত