ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১৫ সেনা কর্মকর্তার কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত”

২০২৫ অক্টোবর ২২ ১১:৪৫:৪৭

১৫ সেনা কর্মকর্তার কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত”

অপরাধের তদন্তে নতুন মোড়! আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ বুধবার ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে সকাল সোয়া ৭টায় বাংলাদেশ জেল প্রিজন ভ্যানে করে এই ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে আনা হয়েছিল। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তিনটি মামলা, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি বিগত সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম-নির্যাতনের ঘটনা সম্পর্কিত। তৃতীয়টি সংঘটিত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়, রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায়। মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫ সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

গুম-নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের দুটি মামলার একটিতে আসামি ১৭ জন। এই তালিকায় রয়েছে র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন)। এছাড়াও র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

র‍্যাবের সাবেক তিনজন মহাপরিচালকও এই মামলার অন্তর্ভুক্ত। তারা হলেন—বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি), এম খুরশিদ হোসেন ও মো. হারুন-অর-রশিদ। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হয়েছেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। এর মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। বাকি দুইজন পলাতক।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত