ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ড.ইউনুস সরকার আরও কত বছর থাকবে জানালেন : সাবেক সেনাপ্রধান

২০২৫ অক্টোবর ২১ ১৫:২৪:১৪

ড.ইউনুস সরকার আরও কত বছর থাকবে জানালেন : সাবেক সেনাপ্রধান

বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম দেশের আগামী পাঁচ বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন। "আগামী পাঁচ বছরে আমরা কোথায় যাচ্ছি?" শিরোনামের পোস্টে তিনি ৫ আগস্টের পরবর্তী ঘটনা ও তার সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাবকে ভিত্তি করে তিনটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক দৃশ্যপট উপস্থাপন করেছেন। তার মতে, আগামী পাঁচ বছরে দেশ বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, প্রতিবাদ, আন্দোলন, হরতাল-অবরোধ ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন যে, দেশের অস্থির অর্থনীতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য তিনটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক দৃশ্যপট

১. বিএনপি'র ক্ষমতা আরোহণ ও চ্যালেঞ্জ:ইকবাল করিমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আরও এক থেকে দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বিএনপি সম্পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবে কিনা তা নির্ভর করবে দুইটি বিষয়ের ওপর—প্রথমত, ভারতের কৌশলগত অবস্থান এবং দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের শক্তি সঞ্চয় ও প্রত্যাবর্তনের ওপর। তিনি সতর্ক করে উল্লেখ করেছেন, বিএনপি যদি "পরিকল্পিত সহিংসতা-বিরোধী আন্দোলন দমন" করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশে ‘১/১১’র পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

২. ঐকমত্যের জাতীয় সরকার (ড. ইউনুসকে প্রেসিডেন্ট):দ্বিতীয় সম্ভাব্য দৃশ্যপটে বলা হয়েছে, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে। এটি হতে পারে দুর্বল প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা অবনতি, অথবা ছাত্র আন্দোলনের চাপের কারণে সংস্কার প্রয়াসে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হলে। এমন পরিস্থিতিতে ড. ইউনুসকে প্রেসিডেন্ট করে একটি ঐকমত্যভিত্তিক জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।

৩. সংবিধান প্রণয়ন ও গণভোটের বছর:তৃতীয় দৃশ্যপটে বলা হয়েছে, যদি সংবিধান সংশোধনের পথ অবলম্বন করা হয়, তবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের রাজনৈতিক মনোযোগ গণপরিষদ নির্বাচন, সংবিধান প্রণয়ন ও গণভোটে ব্যয় হবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন দেশের রাজনৈতিক সময়সূচি সীমিত হতে পারে।

বিশ্লেষণের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য

ইকবাল করিম স্পষ্ট করেছেন, তার বিশ্লেষণ সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ, সাংবিধানিক সংস্কার এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এই পূর্বাভাসের মূল ভিত্তি। তিনি আরও জানিয়েছেন, তার বিশ্লেষণ কোনো রাজনৈতিক দলের অবস্থান বা মতাদর্শের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

সাবেক সেনাপ্রধানের মতে, এই লেখায় পেশাদার নিরপেক্ষতা ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ বজায় রাখা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত বিশ্বাস, রাজনৈতিক পক্ষপাত বা দলীয় আনুগত্যের কোনো প্রভাব নেই; শুধুমাত্র দেশের সামগ্রিক সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত