ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেশে ফিরে যা বললেন ইসরায়েল বন্দি থাকা শহিদুল আলম

২০২৫ অক্টোবর ১১ ০৯:৩২:০৪

দেশে ফিরে যা বললেন ইসরায়েল বন্দি থাকা শহিদুল আলম

আলোচিত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম ইসরায়েল থেকে মুক্ত হয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে দেশে ফেরেন। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই তিনি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কাঁটা দেওয়া ভাষায় বলেন—“ফিলিস্তিন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম শেষ নয়; হাজারো ফ্লোটিলা পাঠাতে হবে।”

শুক্রবার টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে পৌঁছে শনিবার ভোরে ঢাকায় ফিরেছেন শহিদুল। বিমানবন্দরে তিনি জানান, গাজার মানুষের ওপর নির্যাতন চলছেই এবং তাদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা দরকার। তিনি আরও বলেন, “সারা বিশ্ব থেকে যারা সমর্থন জানিয়েছেন—জনগণের দোয়া ও সরকারের তৎপরতার জন্য কৃতজ্ঞ। তবু মনে রাখতে হবে, গাজার মানুষ এখনও মুক্ত হয়নি।”

গত বুধবার গাজাগামী ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ অভিযানরত জাহাজগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক করা হয়। শহিদুল আলম যে জাহাজে ছিলেন—‘কনশানস’—তাহারও অন্যতম। অভিযানের জাহাজগুলো দখল করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের আটক করে নেয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। পরে জর্ডান, মিশর ও তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসের উদ্যোগে তুরস্ক সরকারের সহায়তায় শহিদুলকে মুক্ত করানো সম্ভব হয় বলে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

দেশে ফেরার পরে শহিদুলের বক্তব্য ছিল উগ্র-স্পষ্ট: “আমরা যেতে পেরেছি, অনেকে যেতে পারেনি; তাই আমাদের মতো মানুষের কাজ আরও বাড়াতে হবে—আর হাজারো ফ্লোটিলা পাঠাতে হবে, যতদিন না গাজা স্বাধীন হয়।”

একই সাথে তিনি নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অপমানও তুলে ধরেন—আইনগত ও মানবিক বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, “ইসরায়েলি সেনা যখন বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখে সেই পাসপোর্টটি মাটিতে ছুড়ে ফেলেছে, সেটা আমি কখনই মেনে নিতে পারি না। এটা একটি দেশের নাগরিকের উপর করা অবর্ণনীয় অপমান; এর বিচার দাবি করছি।”

শহিদুল আলম জানান, বন্দি থাকার সময় তাদের ওপর নির্যাতন এবং কঠোর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গাজাবাসীর অবস্থার সঙ্গে তার ভোগান্তি তুচ্ছ—“গাজার যে নির্যাতন চলছে, তার সঙ্গে আমাদের পার হওয়া সামান্যই। গাজা মুক্ত না হলে আমাদের লড়াই চলবে।”

শহিদুল আলমের মুক্তিতে জড়িয়ে সরকারের মধ্যস্থতা, বিদেশি সরকারের সহযোগিতা ও সমর্থক সংগঠনের ভূমিকা সংবাদে গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি-সংগঠন ও সাধারণ মানুষও শহিদুলের দ্রুত মুক্তির জন্য সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এসেছিল বলে জানা গেছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত