ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আদালত ছাড়াই খতিয়ানের ৫ ভুল সংশোধন: নতুন সরকারি নির্দেশনা

২০২৫ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৬:৪২:৩১

আদালত ছাড়াই খতিয়ানের ৫ ভুল সংশোধন: নতুন সরকারি নির্দেশনা

ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দলিল ও রেকর্ড খতিয়ানের পাঁচ ধরনের গুরুতর ভুল সংশোধনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে না। সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড (এসএলআর) ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই ভূমি মালিকরা বিনা খরচে এই ভুল সংশোধনের সুযোগ পাবেন।

সরকারের এই অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত লাখো ভূমি মালিককে মামলা, হয়রানি ও অযথা খরচ থেকে মুক্তি দেবে বলে মনে করছেন ভূমি বিশেষজ্ঞরা।

আগে এই ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য ভূমি মালিকদের আদালতের জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো, যেখানে বছরের পর বছর সময় এবং বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান জীবদ্দশায় সম্ভব হতো না।

যেসব ভুল সংশোধন করা যাবে:

নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভূমি মালিকরা নিম্নলিখিত পাঁচ ধরনের ভুল সংশোধনের সুযোগ পাবেন:

১. নামের বানান ভুল: মালিক, পিতা-মাতা বা স্বামী-স্ত্রীর নামের বানানে গড়মিল।

২. ঠিকানা সংশোধন: ঠিকানা বা অন্যান্য করণিক ভুল।

৩. অংশের ঘরে ভুল: জমির অংশের পরিমাণ কম-বেশি বসে যাওয়া (যেমন ৫০ এর জায়গায় ৫০০ লেখা হয়েছে)।

৪. জমির শ্রেণীতে ভুল: ধানিজমির জায়গায় বাস্তুভিটা লেখা ইত্যাদি।

৫. দাগ নম্বরে ভুল: মূল দাগের পরিবর্তে অন্য দাগ বসে যাওয়া।

এই ভুলগুলো সংশোধনের জন্য ভূমি মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

সরকারের উদ্যোগ ও ক্ষমতা:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ১৯৫০ সালের স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট-এর ১৪৩ ও ১৪৪ ধারার ক্ষমতা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের এসিল্যান্ডদের এসব ভুল সংশোধনের ক্ষমতা দিয়েছে। এটি ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভূমি বিশেষজ্ঞদের অভিমত:

ভূমি বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি কার্যকর হলে লাখো ভূমি মালিকের মূল্যবান সময় ও অর্থ বাঁচবে। তারা মনে করেন, এই পদক্ষেপ ভূমি সেবাকে আরও সহজলভ্য এবং জনবান্ধব করবে।

ভূমি মালিকদের প্রতি পরামর্শ:

ভূমি মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—দলিলে কোনো ভুল ধরা পড়লে মামলা না করে সরাসরি এসিল্যান্ড কার্যালয়ে গিয়ে প্রমাণপত্রসহ আবেদন করতে। এই নতুন প্রক্রিয়া তাদের ভোগান্তি কমাবে এবং দ্রুত সমাধান পেতে সাহায্য করবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত