ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

এবার জিরো টলারেন্স, যে কঠোর বার্তা সেনাসদরের

২০২৫ সেপ্টেম্বর ১০ ২২:৩২:২৭

এবার জিরো টলারেন্স, যে কঠোর বার্তা সেনাসদরের

ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানালেন— “মব বা গণআক্রমণের ঘটনায় সেনাবাহিনী শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে।”

তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা অতীতেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোনো পরিস্থিতিতেই মব করে মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার সুযোগ নেই।”

সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে মব তৈরির ঘটনা প্রসঙ্গে কর্নেল শফিকুল ইসলাম জানান, সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আশ্বস্ত করেন, “সামনের দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।”

মব নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর অবস্থান

কর্নেল শফিকুল স্পষ্ট করে বলেন, “মবের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। যত দ্রুত সম্ভব সেনাবাহিনী সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কখনো সেনাবাহিনী অনুরোধ পাওয়ার পর দায়িত্ব পালন করেনি—এমন উদাহরণ নেই।”

তিনি জানান, কখনো কখনো বিলম্ব হয় তথ্য পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণে। প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, এরপর সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সময় ক্ষেপণ হওয়ায় কিছু জায়গায় দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমন্বয়

গত এক সপ্তাহে হত্যাকাণ্ড, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসায় হামলা ও রাজবাড়ীতে নুরুল হক ওরফে নুরা পাগলার মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী যত দ্রুত সম্ভব ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

তার ভাষায়, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সেনাবাহিনীর একমাত্র কাজ নয়। সেনাবাহিনীর কাছে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার আছে—তারা গ্রেফতার বা আটক করে হস্তান্তর করতে পারে। কিন্তু সাজা দেওয়া আদালতের কাজ। তাই সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যেই সেই সমন্বিত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”

রাজবাড়ীর ঘটনাকে উল্লেখ করে কর্নেল শফিকুল বলেন, সেনাবাহিনী দেরিতে খবর পেলেও রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপরতা চলছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত