ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যে কারনে ডাকসু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহিন সরকার

২০২৫ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৫:৫০:৫৫

যে কারনে ডাকসু নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহিন সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের চমক দেখা দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত নেতা মাহিন সরকার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তিনি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারকে।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাহিন ও বাকের একসঙ্গে এ ঘোষণা দেন। মাহিন বলেন,“প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। তবে আমার সমর্থকদের বলছি, আবু বাকের মজুমদারের জয় মানেই মাহিন সরকারের জয়।”

ছাত্র আন্দোলনের ঐক্যের ডাক

মাহিন জানান, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছাত্র আন্দোলনের ঐক্যের স্বার্থে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়—“গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, সেখানে ঐক্যে ফেরার জন্যই আমি প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ালাম।”

আবু বাকেরের প্রতিক্রিয়া

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার মাহিনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন—“কোটা আন্দোলনের সময় মাহিন ভাইয়ের সঙ্গে আমার যাত্রা শুরু। হলপাড়ার সংগঠনে তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। আজকের এই সিদ্ধান্তে তিনি বড় মনের পরিচয় দিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই।”

দলীয় বহিষ্কার ও বিতর্ক

ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত হন মাহিন সরকার। দলীয় অনুমতি ছাড়া প্রার্থী হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। গত ১৮ আগস্ট রাতে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মাহিন সরকারকে দলীয় পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এনসিপির মতে, তার প্রার্থীতা দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অবমাননা।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাহিন সরকারের সরে দাঁড়ানো ডাকসু নির্বাচনে ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আন্দোলনকেন্দ্রিক ছাত্রসমর্থন এবার আবু বাকের মজুমদারের দিকে ঝুঁকতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত