ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মাইকে ঘোষণার পর শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের ভয়াবহ লড়াই, আহত অর্ধশতাধিক

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ৩১ ০৮:০৭:২৩

মাইকে ঘোষণার পর শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের ভয়াবহ লড়াই, আহত অর্ধশতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে এক নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছোট্ট একটি ঘটনাকে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষই রাতভর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ২০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান।

কিভাবে শুরু হলো সংঘর্ষ?

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, দর্শন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে দারোয়ানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী ফোনে বিষয়টি তার এক সহপাঠীকে জানালে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এরপর দারোয়ানকে ঘিরে ধরতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষের সময় স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ জড়ো করেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও চবির সোহরাওয়ার্দী হলের মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাল্টা সংঘর্ষে জড়ান।

আহত শিক্ষার্থীদের পরিচয়

আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আরবি বিভাগের ফুয়াদ হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শাওন, ইতিহাসের তাহসান হাবিব, লোকপ্রশাসনের আশ্রাফ রাতুল, গণিতের লাবিব, ইংরেজি বিভাগের হাসান জুবায়ের হিমেল, অর্থনীতির নাহিন মুস্তফা, ফারসি বিভাগের আল-মাসনুন, ইসলামিক স্টাডিজের আশিক মিয়া, দর্শনের মাহিন ও তামিম, সমাজতত্ত্বের হুমায়ুন কবির, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের রিদুয়ান, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের রিফাত ও রিপন, বাংলা বিভাগের সাইদুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মো. ইয়েনসহ আরও অনেকে।

চিকিৎসা ও প্রশাসনের অবস্থান

চবি মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় মেডিকেলে ভর্তি হন। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

চবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, “আমরা রাত ১২টার দিকেই নিরাপত্তা টিম পাঠাই। তবে শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে থাকায় সবাইকে একত্র করে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও দেরিতে ছিল।”

সার্বিক পরিস্থিতি

ভোরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত