ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ডাকসু নির্বাচন : ইমিকে ঘিরে বিতর্ক তবে কি কৌশলে ‘রক্ষা’ করলেন মেঘমল্লার

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ১৯ ১৯:৩৪:৪৫

ডাকসু নির্বাচন : ইমিকে ঘিরে বিতর্ক তবে কি কৌশলে ‘রক্ষা’ করলেন মেঘমল্লার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডাকসু নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে প্রতিদিন। আর এই নির্বাচনের আলোচনার কেন্দ্রে এখন বাম গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ভিপি প্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। ২০১৯ সালে দেওয়া তার এক পুরনো বক্তব্য—যেখানে তিনি স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে আজীবন ডাকসু সদস্য করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন—পুনরায় ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করা হয়। সেখানে ভিপি পদপ্রার্থী ইমি ও জিএস পদপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু উপস্থিত ছিলেন। তবে প্যানেল ঘোষণার পর সাংবাদিকরা যখন ইমিকে ওই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করেন, তিনি নীরব থাকেন।

মেঘমল্লারের হস্তক্ষেপ

সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ইমি কিছু বলার চেষ্টা করলেও হঠাৎ থামিয়ে দেন মেঘমল্লার বসু। তিনি বলেন—“আজকের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না। আপনারা চাইলে ক্যাম্পাসে পরে ইমি আপাকে আলাদা করে প্রশ্ন করতে পারেন।”

এই বক্তব্যে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত সাংবাদিকরা। কারণ প্রশ্ন ছিল ইমির উদ্দেশে, কিন্তু উত্তর দিলেন মেঘমল্লার। ফলে আলোচনায় এখন নতুন প্রশ্ন—তিনি কি ইমিকে ‘রক্ষা’ করার জন্যই এভাবে কৌশল নিলেন?

বিতর্কিত বক্তব্যের পটভূমি

২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচিত হওয়ার পর এক টকশোতে ইমি বলেছিলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, আন্তরিকভাবে ডাকসু নির্বাচন সফল করেছেন, অন্তত কৃতজ্ঞতাবশত হলেও তাকে আজীবন ডাকসু সদস্য ঘোষণা করা উচিত।”পরে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় হাসিনাকে আজীবন সদস্য করার সিদ্ধান্ত হয়, যদিও তৎকালীন ভিপি নুরুল হক নুর ও কয়েকজন সদস্য এতে আপত্তি জানান।

বর্তমান অবস্থান

বিতর্ক বাড়তে থাকায় ইমি মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে লিখেছেন—“২০১৯ সালে শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার ব্যাপারে আমার বক্তব্যের কিছু খণ্ডিত অংশ ছড়ানো হচ্ছে। আমার অবস্থান পরিষ্কার—আমি নিরপরাধ মানুষ এবং ছাত্রখুনের নির্দেশদাতার সর্বোচ্চ বিচার চাই। ফুলস্টপ।”

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ইমির এই বিতর্কিত অতীত তার প্রার্থিতা ও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার মেঘমল্লারের হস্তক্ষেপ প্রমাণ করছে, বাম জোট চাইছে ইমিকে আরও বিতর্কে না ফেলে বিষয়টি আড়াল করতে। তবে এতে উল্টো প্রশ্ন উঠছে—একজন ভিপি প্রার্থী নিজেকে কেন রক্ষা করতে পারলেন না, কেন সহযাত্রীকে সামনে আনতে হলো?

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ