ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নিস্তব্ধ শাহবাগ যেভাবে দখলে নেয় ছাত্র-জনতা: ৫ আগস্টের বিস্ফোরক মুহূর্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক :২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—বাংলাদেশের ইতিহাসে etched হয়ে থাকা এক অবিস্মরণীয় দিন। রাজধানীজুড়ে ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা, আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় মোড়া সকাল। ৩৫ দিনের আন্দোলনের শহীদদের রক্তে ভেজা রাজপথে সেদিন জমেছিল অজানা বিস্ফোরণের অপেক্ষা। চারদিকে নিস্তব্ধতা, মানুষের চোখে মুখে ছিল একটাই প্রশ্ন—আজ কী হবে?
সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকার রাস্তাগুলো ছিল প্রায় জনশূন্য। সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের টহলে যেন গুমট হয়ে ছিল শহর। মোড়ে মোড়ে অস্ত্রধারী বাহিনীর অবস্থান, জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া কিছু মানুষের চোখেমুখে ভয়। সিএনজি ও রিকশাগুলোও যেন চলছিল আতঙ্কের ছায়ায়।
ঠিক সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে পিজি হাসপাতালের একটি গলিতে জড়ো হন শতাধিক মানুষ। তাদের হাতে হ্যান্ড মাইক, মুখে গর্জে ওঠা স্লোগান। সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যে থেকেও জাগো নিউজের প্রতিবেদক হিসেবে এই লেখকের গলায় ঝুলন্ত পরিচয়পত্র দেখে গলির বাইরে যাওয়ার অনুমতি মেলে।
শাহবাগ মোড়ে তখনো থমথমে অবস্থা। সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, টহলরত সৈনিক ও পুলিশের নজরে ছিল পুরো এলাকা। ১১টার দিকে বারডেম ও পিজি হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখা যায় কিছু রোগী ও স্বজনকে, যাদের সবার চোখে ছিল আতঙ্কের ছাপ।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আচমকা গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে শাহবাগ। চানখাঁরপুল থেকে আসা গুলির শব্দ আর ককটেল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে ঢাকার বাতাস। শহরের বুক যেন পরিণত হয় এক যুদ্ধক্ষেত্রে।
দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ মোড় প্রায় জনশূন্য। উপস্থিত কেবল সেনাসদস্য আর সাংবাদিকরা। হঠাৎ মৎস্য ভবনের দিক থেকে ধেয়ে আসে গর্জন। কণ্ঠে এক দফা স্লোগান তুলে এগিয়ে আসে প্রায় ৫০০ মানুষের একটি বিশাল মিছিল। অগ্রভাগে ছিলেন নারীরা—যারা হাতে তুলে দেন ফুল। সেনাবাহিনীর সঙ্গে হঠাৎ সৃষ্টি হয় এক অদ্ভুত মানবিক দৃশ্যের।
সেনাবাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা বসে পড়েন শাহবাগ মোড়ে। মুহূর্তেই পূর্ণ হয়ে ওঠে স্লোগানে, গর্জনে, মিছিলে। শাহবাগে সৃষ্টি হয় গণজাগরণের নতুন ঢেউ।
ঠিক তখনই খবর আসে—সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। সেই সঙ্গে বজ্রপাতের মতো ছড়িয়ে পড়ে আরেক সংবাদ—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। মুহূর্তেই শাহবাগ রূপ নেয় বিজয়ের উৎসবে। কান্না, হাসি, সিজদাহ—মানুষের আবেগ ছুঁয়ে যায় আকাশ পর্যন্ত।
ঢাকার বাইরেও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশ থেকে জনতা ছুটে আসে শাহবাগে। সেখানে গড়ে ওঠে এক বিজয়ের মঞ্চ। লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে শাহবাগে সৃষ্টি হয় ইতিহাসের এক জ্বলন্ত অধ্যায়। ইন্টারনেট চালু হলে বিজয় মিছিল ছড়িয়ে পড়ে শহরের কোণে কোণে। শাহবাগ থেকে গণভবনের দিকে এগিয়ে যায় বিক্ষোভের ঢল। ইতিহাস সাক্ষী হয়—যে জনতার শক্তিকে আর থামানো যায় না।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: খেলাটি খুব সহজে সরাসরি দেখুন এখানে (Live)
- ৪ মিনিটের খেলা শেষ বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচটি খুব সহজে সরাসরি দেখুন এখানে (Live)
- সাফের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ: সময়সূচীতে পরিবর্তন
- বিশ্বকাপে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের ফল জানিয়ে দিল হাঙর রিতিনিয়া
- আকাশচুম্বী সোনার দাম: বাংলাদেশে ভরি প্রতি নতুন রেকর্ড ছাড়ালো
- ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর? ২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে যেসব বড় সুবিধা
- ব্রাজিল বনাম মিশর ম্যাচের সময়সূচি জানুন
- আজ বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: জানুন সময়সূচি ও সরাসরি দেখার উপায়
- শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ, খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে LIVE
- বাংলাদেশ-ভারত মহারণসহ ৩১ মে’র জমজমাট খেলার সূচি, রাতে আইপিএল ফাইনাল
- একটু পরেই বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ, খেলাটি সরাসরি দেখবেন এখানে LIVE
- রিয়াদের অবস্থা খুব খারাপ
- আজ রাতে ব্রাজিল বনাম পানামা ম্যাচ: লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- আর্জেন্টিনা বনাম হন্ডুরাস: জেনেনিন মাচের সময়সূচি
- রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল, পানামা ম্যাচটি যেভাবে দেখবেন লাইভ