ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জমির খাজনা না দিলে কত বছর পর জমি খাস হয়ে যাবে

মো : খুরশেদ আলম
মো : খুরশেদ আলম

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ আগস্ট ০৩ ২০:৪৮:৪৩

জমির খাজনা না দিলে কত বছর পর জমি খাস হয়ে যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমি মালিকদের জন্য আসছে বড় পরিবর্তন। সরকার জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে নতুন এক পদক্ষেপ নিয়েছে—‘ভূমি মালিকানা সনদ (CLO)’ চালু করতে যাচ্ছে, যেটি হবে কিউআরকোড বা ইউনিক নম্বরসংবলিত স্মার্ট কার্ড। এই কার্ডই হবে জমির চূড়ান্ত মালিকানা দলিল, যার ভিত্তিতে খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) দিতে হবে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেউ যদি টানা তিন বছর খাজনা না দেন, তাহলে তার জমি বাজেয়াপ্ত করে সরকার ‘খাস জমি’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র মালিকানার দলিল থাকলেই চলবে না—নিয়মিত খাজনা না দিলে সেই জমির ওপর মালিকানা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এই বিধানসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে ‘ভূমি মালিকানা ও ব্যবহার আইন, ২০২৩’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার দেশের প্রত্যেক জমির মালিককে এই নতুন মালিকানা সনদ দেবে, যা ডিজিটালি যাচাইযোগ্য হবে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

এই আইনে বলা হয়েছে—

জমি হস্তান্তরের পর নামজারি ও সনদ হালনাগাদ বাধ্যতামূলক।

জমি হস্তান্তর দলিল, ওয়ারিশান কিংবা আদালতের আদেশ অনুযায়ী মালিকানা বদল করতে হবে।

হালনাগাদ করতে নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা হবে।

সিএলও সনদ না থাকলে জমির ওপর মালিকানা দাবি করা কঠিন হবে।

জমি দখল বা জালিয়াতির অভিযোগেও আসছে কড়া শাস্তি। কেউ অবৈধভাবে জমি দখল করলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

এ ছাড়া কৃষিজমি রক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার নির্ধারণ করবে কোন এলাকা কৃষিজমি, আবাসিক কিংবা বাণিজ্যিক এলাকা হবে—এর জন্য স্যাটেলাইট ইমেজ ও ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করা হবে। অনুমতি ছাড়া কেউ নিজের জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে পারবে না। এক বিঘার বেশি জমির শ্রেণি পরিবর্তনে সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক। ব্যত্যয় হলে ১ বছর জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে।

আইন অনুযায়ী, তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও কড়া নিয়ম রাখা হয়েছে। জনস্বার্থে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। তবে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি মতবিরোধের নিষ্পত্তি করবে।

গ্রামাঞ্চলে কৃষিজমি রক্ষা করতে ঊর্ধ্বমুখী ভবন নির্মাণে উৎসাহ দিতেও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে একদিকে কৃষিজমি অক্ষুণ্ন থাকে, অন্যদিকে আবাসনের চাহিদাও পূরণ হয়।

সবশেষে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে বা স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় বাজারদরের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, না মানলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এই খসড়া আইন এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন পেলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় এটি এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত