ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

"গোপন প্রশিক্ষণ কেলেঙ্কারি: সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদিকের পরিচয় ফাঁস

২০২৫ আগস্ট ০১ ২০:৩২:৫৪

"গোপন প্রশিক্ষণ কেলেঙ্কারি: সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদিকের পরিচয় ফাঁস

দেশে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য—সরকারি দায়িত্ব পালনের বদলে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের জন্য ক্যাডার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন সেনা কর্মকর্তা মেজর সাদিকুল হক! রাজধানীর একাধিক এলাকায় গোপনে চলেছে এই ‘অভিযান’, যার মূল কারিগর হিসেবে উঠে এসেছে ‘মেজর সাদিক’ নামের এই সেনা কর্মকর্তার নাম।

সাম্প্রতিক এক তদন্তে জানা গেছে, কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত মেজর সাদিক তার নিয়োজিত পোস্টে না থেকে মিরপুর, ভাটারা, কাটাবন ও পূর্বাচলে গোপন রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। এই প্রশিক্ষণগুলোর লক্ষ্য ছিল দলের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করা।

৮ জুলাই ভাটারার একটি কনভেনশন সেন্টারে প্রায় ৪০০ নেতাকর্মীকে গোপন টোকেনের মাধ্যমে ডেকে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর, ১৭ জুলাই সেনাবাহিনী মেজর সাদিককে রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক করে এবং সেনা হেফাজতে নেয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রমাণ মিললে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এই ঘটনায় পুলিশ ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে আছেন যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন। চাঞ্চল্যকরভাবে, তদন্তে উঠে এসেছে, মেজর সাদিকের স্ত্রী সহকারী পুলিশ সুপার সুমাইয়া জাফরিনও এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।

তদন্ত আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, কলকাতা ও দিল্লি থেকে এই পুরো প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তদারকি করা হচ্ছিল। কলকাতায় ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আর দিল্লিতে অবস্থানরত পলাতক পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এতে সরাসরি জড়িত বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর আইএসপিআর সূত্র জানিয়েছে, মেজর সাদিকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে। এখন পুরো বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করছে—সেনাবাহিনীর ভেতর থেকেই কী নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের চেষ্টা হচ্ছে?

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ