ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আমরা এক অলৌকিক প্রক্রিয়ায় এ দেশে বেঁচে থাকি: আব্দুন নূর তুষার

২০২৫ জুলাই ২২ ১০:৫১:২৭

আমরা এক অলৌকিক প্রক্রিয়ায় এ দেশে বেঁচে থাকি: আব্দুন নূর তুষার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে একের পর এক দুর্ঘটনা, মৃত্যু আর মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে এবার প্রতিবাদী কণ্ঠে সরব হলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি বলেন, “এ দেশে আমরা বেঁচে থাকি এক অলৌকিক প্রক্রিয়ায়।”

অসহায় মানুষের বাস্তবতা তুলে ধরলেন তিনিতার ভাষ্য, প্রতিটি দুর্ঘটনা যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমরা কতটা অসহায়, কতটা অনিরাপদ। পোস্টে তিনি দেশের নানান দুর্যোগ ও ভয়াবহ ঘটনা তুলে ধরে লেখেন,“এখানে নির্মীয়মাণ ভবন একে লোহার টুকরা আর ফ্লাইওভারের গার্ডার আমাদের ওপরেই পড়ে।আমরা বৃষ্টির পানিতে ড্রেনে ভেসে যেতে দেখি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখি।আমাদের গার্মেন্টস ধসে পড়ে শ্রমিকদের ওপর। আমাদের রাজপথ দুর্ঘটনার স্বর্গ।”

মৃত্যুই যেন স্বাভাবিকতুষার আরও লেখেন, “আমরা ডেঙ্গু হয়ে মরি, করোনা হয়ে মরি, অগ্নিকাণ্ডে মরি, খাবার খেতে গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে মরি। আমাদের শিশুরা মরে, জানেও না কেন! আকাশ থেকে যুদ্ধবিমান পড়ে মৃত্যু ঘটে।”

এই বিবরণে ফুটে উঠেছে এক ভয়াবহ, অথচ অস্বীকার করা যায় না এমন এক বাস্তব চিত্র, যা দিনের পর দিন গড়ে তুলছে মৃত্যু ও অসহায়তার অভ্যস্ত সমাজ।

সমাজের নিঃসাড় প্রতিক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভআব্দুন নূর তুষার তার পোস্টের সবচেয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন সমাজের নিস্পৃহতা নিয়ে। তিনি লিখেছেন,“এই সমাজ চোখ বন্ধ করে থাকে। একটি অঘটনের পর পরেরটার জন্য অপেক্ষায় থাকে। যেন এই সবকিছুই স্বাভাবিক।”

‘জীবন্মৃত’ হয়ে বেঁচে থাকা মানুষতার হৃদয়স্পর্শী অভিমত, “আমরা আসলে সবাই জম্বি—জীবন্মৃত। আমরা বেঁচে নেই, আমরা একেকটা চলাফেরা করা মৃতদেহ।”

এই কথাগুলো যেন কেবল আব্দুন নূর তুষারের নয়, বরং এক গোটা দেশের সাধারণ মানুষের মনের আর্তি—যারা প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকে একরকম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত