ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশের এই ৪টি ব্যাংককে ৯৪৫ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করা হলো

২০২৪ অক্টোবর ০২ ২১:৩৪:১৭

দেশের এই ৪টি ব্যাংককে ৯৪৫ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করা হলো

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্বলতার কারণে কিছু বেসরকারি ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়েছে। এই ব্যাংকগুলোকে স্থিতিশীল করতে এবং তাদের কার্যক্রম সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই সহায়তা মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টির ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কিছু সবল ব্যাংক থেকে ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেওয়া এই সিদ্ধান্ত মূলত দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে গৃহীত হয়েছে।

### ব্যাংকগুলোর সংকট:শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশেও ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার ফলে বিভিন্ন ব্যাংকে নগদ অর্থের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের অধীনে থাকা আটটি ব্যাংক তাদের তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক ব্যাংকের শাখায় লেনদেন করার মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নেই, ফলে আমানতকারীরা তাদের টাকা তুলতে সমস্যায় পড়ছেন।

### কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ:বাংলাদেশ ব্যাংক সংকটে থাকা চারটি ব্যাংককে ৯৪৫ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে **ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক** (৩০০ কোটি টাকা) এবং **সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক** (৩৫০ কোটি টাকা)। এ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সবল ব্যাংক থেকে, যেমন **সিটি ব্যাংক**, **ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক**, **মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক** ইত্যাদি। সিটি ব্যাংক এককভাবে ৭০০ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করেছে, যা এই উদ্যোগে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

### তারল্য সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গ্যারান্টি দিয়েছে, যার মাধ্যমে যদি কোনো ব্যাংক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পারে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ঋণের পরিশোধ নিশ্চিত করবে। এই গ্যারান্টির মাধ্যমে বাজারে নগদ অর্থ প্রবাহ কমানো হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে না। এতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্থের প্রবাহ বজায় থাকবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে না। এছাড়াও, দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য আরও ২৯ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তার আবেদন করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলো ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে, ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা স্থায়ীভাবে উন্নতির জন্য গভীরতর সংস্কার এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত