ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

২৫৬ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি: সাকিবসহ ১৫ জনের মা1মলায় আদালতের নতুন সিদ্ধান্ত

২০২৬ জুলাই ২৮ ০১:৪৭:১১

২৫৬ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি: সাকিবসহ ১৫ জনের মা1মলায় আদালতের নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ারবাজারে কথিত কারসাজি ও ২৫৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা প্রস্তুত না হওয়ায় সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সরকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম।

মামলাটি গত বছরের ১৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন দায়ের করেন। মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভির নিজামসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে শেয়ারবাজারে কারসাজি করেছেন। নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ার ধারাবাহিকভাবে কেনাবেচার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। পরে উচ্চমূল্যে শেয়ার বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের দাবি, এই সংঘবদ্ধ কারসাজির মাধ্যমে মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অর্থকে মূলধনী মুনাফা হিসেবে দেখানো হলেও তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী এটি অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল খায়ের হিরু শেয়ারবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেছেন। তার নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে দুদক।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাকিব আল হাসানও এই কথিত কারসাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দুদকের ভাষ্য, এ প্রক্রিয়ায় তিনি ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর নামে উত্তোলন করেন।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মামলার এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর আদালতের পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ

মেসির জন্য সুখবর

মেসির জন্য সুখবর

মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অল-স্টার ম্যাচে... বিস্তারিত