ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক!

২০২৬ জুলাই ২৬ ২১:৪৭:৩৪

বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক!

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট নিয়ে করা এক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) জানিয়েছে, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেল টুথপেস্টে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসডো এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, প্রায় এক বছর ধরে পরিচালিত গবেষণায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণায় স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (FTIR) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত ২টির দুটিতেই এই ক্ষতিকর কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বাজারজাত ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে।

এসডোর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে ৩২০টি, ক্লোজ আপ রেড হটে ১৬০টি, ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্টে ১০০টি, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

শিশুদের ব্যবহারের জন্য তৈরি টুথপেস্টগুলোর মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যা শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে গবেষণায় কিছু ইতিবাচক তথ্যও উঠে এসেছে। জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মেলেনি বলে জানিয়েছে এসডো।

গবেষণা প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্টে ব্যবহৃত উপাদান নিয়ে আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কার্যকর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ

মেসির জন্য সুখবর

মেসির জন্য সুখবর

মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অল-স্টার ম্যাচে... বিস্তারিত