ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন? পদত্যাগের পর আলোচনার কেন্দ্রে যে নাম

২০২৬ জুলাই ২৪ ২২:৫২:৩৭

রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন? পদত্যাগের পর আলোচনার কেন্দ্রে যে নাম

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের পরবর্তী প্রক্রিয়া জানাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যেই সম্ভাব্য নতুন রাষ্ট্রপতির নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ-সংক্রান্ত বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং এরপর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব এবং দল ও সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে তাকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকায় শীর্ষে রাখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্ব দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে মির্জা ফখরুলকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সংলাপমুখী অবস্থান, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতা তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংসদীয় প্রক্রিয়া ও ক্ষমতাসীন দলের আনুষ্ঠানিক মনোনয়নের ওপর।

সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—সেদিকে এখন সবার নজর।

দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সম্ভাব্য নামগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র ও আলোচনার ভিত্তিতে উপস্থাপিত। সরকার বা নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এখনো নতুন রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত