ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

যে ৮ টুথপেস্টে পাওয়া যায়নি মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় স্বস্তির খবর

২০২৬ জুলাই ২৭ ০১:১২:৪২

যে ৮ টুথপেস্টে পাওয়া যায়নি মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় স্বস্তির খবর

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্ট নিয়ে এক বছরের গবেষণায় স্বস্তিদায়ক একটি তথ্য সামনে এসেছে। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-র পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ৮টিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। যদিও বাকি ২৬টি টুথপেস্টে বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

ইএসডিও ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট সংগ্রহ করে গবেষণা চালায়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি’ ল্যাবরেটরিতে আধুনিক পরীক্ষার মাধ্যমে নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, পরীক্ষিত নমুনার প্রায় ৭৬.৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে।

গবেষণায় যেসব টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি, সেগুলো হলো— জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজআপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি, প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট এবং কোডোমো অরেঞ্জ। এর মধ্যে দেশীয় ও আমদানিকৃত—উভয় ধরনের ব্র্যান্ডই রয়েছে।

অন্যদিকে, গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল-এ। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট, ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ এবং কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-তেও তুলনামূলক বেশি পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্ট নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। পরীক্ষিত ৬টি শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং কোডোমো অরেঞ্জ-এ কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি, যা অভিভাবকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।

ইএসডিওর গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা পণ্য কেনার সময় সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্যও বাজার তদারকি কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৪১.৯ শতাংশ মানুষ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়টি আগে কখনও শোনেননি, ৩১.৩ শতাংশ এ বিষয়ে আংশিক জানেন, আর মাত্র ২৬.৯ শতাংশ ভোক্তা এ বিষয়ে সচেতন। গবেষকরা মনে করছেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ

মেসির জন্য সুখবর

মেসির জন্য সুখবর

মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অল-স্টার ম্যাচে... বিস্তারিত