ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কমলো জ্বালানি তেলের দাম

২০২৬ জুন ১২ ১১:৪১:৪৫

কমলো জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও পতন দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেল বাজারে, কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১২ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২১ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮৯ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দামও কমেছে। প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ২৩ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে তা ৮৬ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সাপ্তাহিক হিসাবেও তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং WTI তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়নি।

বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “এটি হয়তো আরেকটি অনিশ্চিত আশা হতে পারে, তবে বাজার দ্রুত এবং স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।” তার মতে, সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে তেলের বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর আশঙ্কা তৈরি হয়, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

তবে বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের বাজারের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই বর্তমান পতনকে সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত