ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

২০২৬ জুন ১১ ০৯:৩৪:০০

ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে একদিনের ব্যবধানে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম প্রায় ২ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর সেই প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের দামে।

সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬৫ ডলার বা প্রায় ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩.১০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ১.৮৩ ডলার বা ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯০.০৩ ডলারে লেনদেন শেষ করেছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কোনো শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার এমন বক্তব্য বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং দিনের এক পর্যায়ে তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ না নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও ভয়াবহ উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবহন খরচ এবং বিভিন্ন দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত