ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

হঠাৎ ভিসা বাতিল, বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৬ জুলাই ২৮ ০১:২৬:২০

হঠাৎ ভিসা বাতিল, বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বৈধ রেসিডেন্স ভিসা হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ-আমিরাত রুটে বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগও উঠেছে। ফলে ছুটিতে দেশে এসে আটকে পড়া অনেক প্রবাসী একদিকে ভিসা জটিলতা, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সি ও টিকিট ব্যবসায়ী সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিমভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে একমুখী (ওয়ানওয়ে) টিকিট ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে এবং দুইমুখী (রিটার্ন) টিকিট প্রায় ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, সেখানে এখন একই রুটের টিকিটের জন্য ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এতে প্রবাসীরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের চাপে পড়েছেন।

প্রবাসীদের দাবি, টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করছেন, টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ যাত্রীরা বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত দামে টিকিট পাচ্ছেন না।

এদিকে গত দুই থেকে তিন সপ্তাহে ছুটিতে বাংলাদেশে আসা বেশ কিছু প্রবাসীর বৈধ রেসিডেন্স ভিসা হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অনেকের ভিসার মেয়াদ এক বছরেরও বেশি বাকি থাকা সত্ত্বেও ভ্রমণের সময় জানতে পারছেন যে তাদের ভিসা আর কার্যকর নেই। এতে তারা নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না এবং চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, নতুন ভিসা পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সেটি বাতিল হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ বিমানবন্দরে বোর্ডিংয়ের সময় প্রথমবারের মতো ভিসা বাতিলের তথ্য জানতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি ঘটনার কারণ এক নয়। নিয়োগকর্তার সিদ্ধান্ত, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক অবস্থা, দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকা অথবা অন্যান্য ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনা পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।

সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নজর পড়ার পর কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের দাবি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর পর বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের আশা, উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার মাধ্যমে ভিসা বাতিলের জটিলতার দ্রুত সমাধান হবে এবং যারা দেশে আটকে পড়েছেন তারা আবার বৈধভাবে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন।

প্রবাসী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, ভিসা বাতিলের অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জানাতে হবে এবং বৈধ প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ-আমিরাত রুটে টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে বিমান ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হবে, যাতে প্রবাসীরা অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়েন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ব এর অন্যান্য সংবাদ

মেসির জন্য সুখবর

মেসির জন্য সুখবর

মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে অল-স্টার ম্যাচে... বিস্তারিত